বয়স কিংবা ফিটনেস— সব বাধা দূরে ঠেলে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছিলেন জেমস অ্যান্ডারসন। পারফরম্যান্সেও নিয়মিত উজ্জ্বলতা ছড়িয়েছেন এই ডানহাতি পেসার। তবে এবার নিয়তির নির্মম বাস্তবতায় তার গৌরবময় ক্যারিয়ার দাঁড়িয়েছে এক চরম ধোঁয়াশার সামনে। ৪৪ বছর বয়সী এই ইংলিশ কিংবদন্তির পেশাদার ক্রিকেটে পথচলার হয়তো এখানেই ইতি ঘটতে যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস প্রথম খবরটি সামনে আনে। তারা জানায়, অ্যান্ডারসনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পাট চুকিয়ে নতুন করে চুক্তির মেয়াদ আর বাড়াচ্ছে না ল্যাঙ্কাশায়ার। টেস্টে পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭০৪ উইকেট নেওয়া এই তারকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়েছেন ২০২৪ সালে। এরপরও তিনি খেলা চালিয়ে গেছেন ইংলিশ কাউন্টির দ্বিতীয় বিভাগের দল ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে।
শৈশবের ঘর থেকে শুরু করে বিশ্বমানের তারকা হয়ে ওঠার পুরো যাত্রাই কেটেছে এই একটি ক্লাবে। এই পড়ন্ত বেলায় তিনি নতুন কোনো ঠিকানার খোঁজে নামবেন নাকি পেশাদার ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি অবসর নিয়ে ফেলবেন— তা এখন বড় প্রশ্ন।
অথচ বয়স বাড়লেও বল হাতে তার কার্যকারিতা কমেনি। ২৪ বছরের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়ারে সম্প্রতি নিজের অন্যতম সেরা মৌসুম কাটিয়েছেন অ্যান্ডারসন। অধিনায়কত্বের দায়িত্ব সামলে ১১ ম্যাচে মাত্র ১৭.৬৮ গড়ে ঝুলিতে পুরেছেন ৫০টি উইকেট। তিনবার ইনিংসে ৫ উইকেট ছাড়াও একবার ম্যাচে তুলে নিয়েছেন ১০ উইকেট।
অ্যান্ডারসন ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে উজ্জ্বল থাকলেও মূল গোলমালটা বেঁধেছে ল্যাঙ্কাশায়ারের দলীয় পারফরম্যান্সে। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় বিভাগে আটটি দলের মধ্যে তারা সপ্তম হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে। ফলে ক্লাবটিকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে পুরো ক্রিকেটীয় ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ঢেউ উঠেছে।
নতুন প্রধান নির্বাহী রিচার্ড কেনিয়ন দায়িত্ব পেয়েই আমূল পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ক্রিকেট পরিচালক মার্ক চিলটনকে। তার জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছেন পল ফারব্রেস। কোচিং প্যানেলেও বড় রদবদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট।
পুনর্গঠনের এই ঝড়েই বাদ পড়তে যাচ্ছেন অ্যান্ডারসন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর, আগামী মৌসুমের জন্য নতুন কোনো চুক্তির প্রস্তাব না রাখার কথা অ্যান্ডারসনকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও ল্যাঙ্কাশায়ার কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, অ্যান্ডারসনের ইচ্ছা ছিল আরও অন্তত একটি মৌসুম খেলা চালিয়ে যাওয়ার। যদি অন্য কোনো কাউন্টি ক্লাবে যোগ না দেন, তবে এখানেই থেমে যেতে হবে তাকে। সেক্ষেত্রে ৩১৫ ম্যাচে ১ হাজার ১৯৩টি প্রথম শ্রেণির উইকেটের বিশাল অর্জনের মুকুটে আর নতুন কোনো পালক যোগ হবে না।
