গন্তব্যে পৌঁছে বাবা-মায়ের সঙ্গেই অটোরিকশা থেকে নেমেছিল ছোট্ট মণীষা। চোখে দেখতে পায় না বছর নয়ের ওই নাবালিকা। ভাড়া মেটাবেন বলে তার মা সবে হাতটা ছেড়েছেন। ছেলেমানুষ! ছুট পেতেই আস্তে আস্তে মাকে ছেড়ে কয়েক পা পিছিয়ে আসে সে। এমন সময় হঠাৎ, সকলের অলক্ষ্যে খোলা মুখ গভীর নর্দমায় পড়ে তলিয়ে যায় মণীষা। অহমদাবাদের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ এবং দমকল বাহিনী। তল্লাশি অভিযান শুরু করে তারা। ক্রমাগত চেষ্টা সত্ত্বেও নিখোঁজ নাবালিকাকে এখনও পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। গুজরাতের অহমদাবাদের নারোল-পিরানা রোডে ২০ ফুট গভীর একটি খোলা নর্দমায় ৯ বছর বয়সি নাবালিকা তলিয়ে যাওয়ার পর থেকেই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন স্থানীয়েরা। শনিবার বিকেলে ওই দুর্ঘটনার পর থেকে একটানা উদ্ধার অভিযান চলছে। কিন্তু উদ্ধারকারী দলগুলি এখনও মেয়েটির সন্ধান পায়নি বলেই জানা গিয়েছে। উদ্ধারকার্যের একাধিক ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। উৎকণ্ঠায় নেটপাড়াও। তবে সেই সব ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
মণিনগর দমকল বিভাগের কর্তা প্রবীণ সিং সোলাঙ্কি বলেছেন, “বিকেল ৪টের দিকে দমকল বাহিনী একটি ফোন পায়। তার পরেই আমাদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। এলাকা জুড়ে তল্লাশি হয়েছে এবং পাম্পিং স্টেশনটিও দেখা হয়েছে। কিন্তু কোনও সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমরা জলের গভীরতা এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ভিতরে বিএসএফ-এর কর্মী পাঠাব। স্রোত অনুকূলে থাকলে আমরা আরও এগিয়ে যাব, নর্দমার ম্যানহোলের ঢাকনা খুলে পাম্পিং স্টেশন পর্যন্ত রাস্তাটি পরিদর্শন করব। বালিকাকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা তল্লাশি চালিয়ে যাব।”
দুর্ঘটনার পর থেকে প্রায় দু’দিন পার। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত নাবালিকার কোনও খোঁজ মেলেনি। উদ্বেগে তার পরিবার। উদ্ধারকারী দল তাদের কার্যক্রম সবরমতী নদীর দিকেও সম্প্রসারিত করেছে। নর্দমার গভীরতা এবং নোংরা কালো জলে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসায় এবং তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকারীরা কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভ এবং সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। খোলা এবং বিপজ্জনক নর্দমার কারণে অহমদাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন স্থানীয়েরা।
