সংবাদ · সাধারণ
পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় দাফন হলো সাঈদী মামলার বাদীর
২৫/১০/২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও অন্যতম সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ শেষ পর্যন্ত পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দাফন করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে তার নিজ বাড়িতে এই দাফন সম্পন্ন হয়।এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হলে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মী ও জনসাধারণের ক্ষোভের মুখে পড়ে পরিবার। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষপ করে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায়। পরে সেখানে বিকেল ৫টার দিকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় এবং পুলিশি পাহারায় মরদেহ সুরক্ষিত রাখা হয়।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ টানাপোড়েন ও মধ্যরাতে পুলিশ ও জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় মরদেহটি বাড়িতে পৌঁছায়। পরে রাত ১টার দিকে স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। কবরের নিরাপত্তায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে আমাদের কোনো নেতাকর্মী বাধা সৃষ্টি করেননি। জামায়াতে ইসলামী লাশের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; বরং পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে যাতে দাফন কাজ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।'পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মরদেহ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।উল্লেখ্য, ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ও সাক্ষী হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে আত্মগোপনে ছিলেন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার পর গোপালগঞ্জে তার মৃত্যু হয়।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗