Published on
:
1 min read
এই সময়, ময়নাগুড়ি: মণ্ডপে ঢুকতে হবে বিশাল এক মৌচাকের পাশ দিয়ে। ভিতরে পা রাখলেই কানে আসবে পাখির কিচিরমিচির। চোখে পড়বে সারি সারি পাখির বাসা, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাবুইয়ের বাসা। মাঝখানে এক বিশাল বটগাছ, তার ঝুরি নেমে এসেছে নিচ পর্যন্ত। সেই ঝুরিতে, ডালে ডালে ঝুলছে পাখিদের নীড়। এটাই এ বারের ‘মধুবন’। ময়নাগুড়ির ময়নামাপাড়া নারীশক্তি দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026) কমিটির পুজো এ বার চতুর্থ বর্ষে পা দিল।
মণ্ডপ সাজাচ্ছেন জলপাইগুড়ির শিল্পী রামপ্রসাদ রাজবংশী। প্রতিমা গড়েছেন মৃৎশিল্পী নির্মল পাল। আর আলোর জাদুতে মণ্ডপে ফুটে উঠবে নানা ছবি, দায়িত্বে আলোকশিল্পী তাপস মজুমদার। এই পুজোর বিশেষত্ব অন্য জায়গায়। এটা পুরোপুরি মহিলাদের পুজো। ময়নামাপাড়া আর দেবীনগরের মহিলারা মিলে চার বছর আগে এই পুজো শুরু করেন। খুঁটি পুজো থেকে বিসর্জন, সবটাই সামলান তাঁরাই। পুরুষরা থাকেন সহযোগিতায়। ময়নাগুড়ি পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এই পুজো এখন গোটা পাড়ার ‘আনন্দধাম’। পুজোর চার দিন খিচুড়ি ভোগ। গোটা পাড়া একসঙ্গে বসে খাওয়া-দাওয়া। কমিটির সদস্য শিপ্রা বিশ্বাসের কথায়, ‘চার বছর আগে কয়েকজন মহিলা মিলে ছোট করে শুরু করেছিলাম। এখন পাড়ার সব মহিলা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দেন। আগে অন্য পুজো দেখতে বেরোতাম, এখন আর যেতে ইচ্ছে করে না। এই পুজোটাই আমাদের প্রাণ হয়ে গেছে।’
পুজো কমিটির সভাপতি মিলন দে বলেন, ‘এই পুজোটা আমাদের কাছে আনন্দের। মহিলারাই সবটা করেন। আমরা পাশে থাকি। চারটে দিন সবাই মিলে হইহই করে কাটাই। প্রতি বছর চেষ্টা করি নতুন কিছু করে দর্শকদের নজর কাড়তে। এ বারও মধুবন দর্শকদের ভালো লাগবে বলেই বিশ্বাস।’
