দুর্গাপুজো মানেই ঠাকুর দেখা, আড্ডা আর জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। ষষ্ঠীর সকাল থেকে দশমীর বিসর্জন, উৎসবের প্রতিটি দিনই বাঙালির রসনাতৃপ্তির সঙ্গে জড়িয়ে। তবে প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকাচার অনুযায়ী, পুজোর পাঁচটি দিনে নির্দিষ্ট কিছু খাবার এড়িয়ে চলার রীতিও রয়েছে। কোনদিন বাঙালির পাত থেকে বাদ পড়বে কোন খাবার (Durga Puja 2026)? জেনে নিন।
ষষ্ঠী: নিমপাতা
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীতে নিমপাতা খাওয়া উচিত নয়। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় এই দিনে নিমপাতা খাওয়ার সঙ্গে সন্তানের অমঙ্গল বা অশুভ ফলের ধারণা জড়িয়ে রয়েছে।
সপ্তমী: তাল
সপ্তমীর দিনে তাল খাওয়া থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে তাল খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করা হয়।
অষ্টমী: নারকেল
দুর্গাপুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহাষ্টমী। এই দিনে নারকেল খাওয়া অনুচিত বলে মনে করা হয়। ধর্মীয় ব্যাখ্যা জানায়, অষ্টমীতে নারকেল খেলে বুদ্ধি বা বিচারবোধ নাশ হয়।
নবমী: লাউ
নবমীর দিনে লাউ খাওয়া এড়িয়ে চলার রীতিই প্রচলিত। অনেকে আবার এ কথাও মনে করেন যে এই দিনে লাউ খাওয়া গুরুতর পাপের সমান! তবে এই নিষেধাজ্ঞা লোকাচারভিত্তিক। লাউ পুষ্টিকর সবজি এবং নির্দিষ্ট দিনে এটি খেলে অমঙ্গল হয়, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
দশমী: কলমি শাক
বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা বিদায় নেন। এদিন কলমি শাক না খাওয়ার বিধি প্রচলিত। ধর্মীয় ব্যাখ্যা অনুসারে, এই দিনে কলমি শাক খাওয়া গোবধের পাপের সমতুল্য।
কিছু সূত্র মতে আবার তৃতীয়ায় পটল, চতুর্থীতে মূলো, পঞ্চমীতে বেল এবং একাদশীতে শিম খাওয়ার নিষেধের কথাও উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট তিথিতে নির্দিষ্ট খাবার এড়ানোর ধারণাটি কেবল দুর্গাপুজোর পাঁচ দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অঞ্চল, পরিবার ও পুজোর রীতিভেদে খাদ্যসংক্রান্ত বিধিনিষেধের পার্থক্য দেখা যায়।
দুর্গাপুজো মূলত ভক্তি, আনন্দ ও মিলনের উৎসব। তাই এই খাদ্যনিষেধগুলি মানবেন কি না, তা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল। ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান করার পাশাপাশি খাবার নিয়ে অযথা ভয় না পেয়ে সুস্থ ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।
