পাকিস্তানে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত সংগঠনসংশ্লিষ্ট নেতা মুহাম্মদ সারওয়ারের মৃত্যু, অন্যদিকে বিদেশে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সমালোচনা এবং ঐতিহাসিক মন্দির সিলগালা করার ঘটনা আলোচনায় এসেছে। একই সময়ে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে আটজন নিহত হওয়ার খবরও জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। পাকিস্তানের লাহোরে গত রোববার মারা গেছেন মুহাম্মদ সারওয়ার। তিনি পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগের পাঞ্জাব প্রদেশের সভাপতি ছিলেন। দলটির মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ি থেকে মসজিদে যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তার মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সিঁড়ি থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তর সারওয়ারকে বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, তিনি লস্কর-ই-তাইয়েবার অর্থ সংগ্রহ ও স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংগঠনটির অর্থায়নের নেটওয়ার্ক দুর্বল করতে তার সম্পদ জব্দের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগকে মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজ সাঈদের প্রতিষ্ঠিত জামাত-উদ-দাওয়ার রাজনৈতিক শাখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সন্ত্রাসে অর্থায়নের মামলায় সাজা হওয়ার পর ২০১৯ সাল থেকে হাফিজ সাঈদ লাহোরের কোর্ট লাখপত কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তাদের একাংশ বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তার দাবি, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও পর্তুগালে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান শহরের রহিম বাজারে অবস্থিত ঐতিহাসিক রামলীলা মন্দির সিলগালা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
এদিকে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর তিনটি পৃথক অভিযানে অন্তত আটজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। রোববারের বিবৃতি অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোয়েট্টা, নুশকি ও খুজদার জেলায় অভিযান চালানো হয়।