নিজস্ব প্রতিবেদক · ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৩১ অপরাহ্ন
সিলেটে নতুন গ্যাসের সন্ধানে দুটি অনুসন্ধান কূপ খননের জন্য নেওয়া ৬৪৬ কোটি টাকার প্রকল্পে দুই বছরেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। জমি অধিগ্রহণ ও সড়ক নির্মাণে বিলম্বের কারণে এখনো শুরু করা যায়নি কূপ খননের কাজ। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তা আরও দুই বছর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)।
প্রকল্পটির দুটি কূপ হলো জৈন্তাপুরের ডুপিটিলা-১ এবং গোলাপগঞ্জের কৈলাসটিলা-৯। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কূপ দুটি থেকে ১০ বছরে মোট ৫৬ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে প্রকল্পের কাজ এগোতে না পারায় নির্ধারিত সময়ে গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) আগস্ট ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ১৬ শতাংশ। অথচ প্রকল্পের মেয়াদ শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর। দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পটির নির্ধারিত সময় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়েছে।
প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৪৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪১৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা এবং এসজিএফএলের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয়ের কথা রয়েছে ২৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই কূপের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের কাজ সময়মতো শেষ করা যায়নি। জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে প্রথমে জমি রিকুইজিশনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় জমির মালিকদের আপত্তিতে জটিলতা তৈরি হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে এ প্রক্রিয়া জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
ডুপিটিলা-১ কূপের জন্য প্রায় ৭৮৩ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২৩২ মিটারের কাজ হয়েছে। বাকি ৫৫১ মিটার সড়কের পাশাপাশি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের কাজও বাকি রয়েছে। অন্যদিকে কৈলাসটিলা-৯ কূপের জমি উন্নয়নের কাজই এখনো শুরু হয়নি।
আইএমইডির পর্যবেক্ষণে জমি অধিগ্রহণের আগে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের কাজ শেষ করতে এসজিএফএল গত ৯ সেপ্টেম্বর সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। এতে প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডুপিটিলা-১ কূপের গভীরতা হবে ৩ হাজার ৪৫০ মিটার এবং কৈলাসটিলা-৯ কূপের গভীরতা ৩ হাজার ৬০০ মিটার। প্রথম পাঁচ বছর প্রতিদিন ২ কোটি ঘনফুট এবং পরের পাঁচ বছর প্রতিদিন ১ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের হিসাব ধরে দুই কূপ থেকে ১০ বছরে ৫৬ বিসিএফ গ্যাস পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্ম প্রধান মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় নকশা ও কূপের গভীরতা পরিবর্তনের বিষয়, কাজ পিছিয়ে পড়ার কারণ এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা পর্যালোচনা করা হবে। মেয়াদ বা ব্যয় পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে পরবর্তী প্রক্রিয়ায় প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাঠানোর বিষয়ও বিবেচনায় আসতে পারে।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
