- Anandabazar
- Photogallery
- Afghan man father of 58 children struggles to feed family amid extreme poverty but still can’t stop having children dgtl
চার বৌ, ৫৮ সন্তান! মনে থাকে না সব সন্তানের নাম, লিঙ্গ, ‘রাবণের গুষ্টি’র পেট চালাতে হিমশিম খান কর্তা
হতদরিদ্র পরিবারটির বর্তমান সদস্যসংখ্যা ৬৩। এর মধ্যে ৫৮ জনই শিশু-কিশোর-তরুণ। রয়েছেন চার সতীন। সকলের পেট চালানোর ভার পরিবারের মাথা মুহম্মদ সাদেকের উপর।
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:৪২
০১ / ১৫
তালিবানি শাসনের ঘেরাটোপে আফগানিস্তানের অবস্থা যে সময়ের সঙ্গে আরও সঙ্কটজনক হয়ে উঠছে, সে সংক্রান্ত নানা তথ্য আগেই উঠে এসেছে। চলতি বছর মে মাসের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, চরম দারিদ্র্য এবং অনাহারের কারণে আফগানিস্তানে শিশুসন্তানদের বিক্রি করে দিচ্ছেন বাবা-মায়েরা! বিশেষ করে, দেশের মহিলাদের নাগপাশে বেঁধে গোটা আফগান সমাজের ভবিষ্যৎকেই চরম অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছেন তালিব শাসকেরা।
০২ / ১৫
এরই মধ্যে অভাব আর অশিক্ষায় জর্জরিত আফগানিস্তানের একটি পরিবারে দেখা গেল এক অদ্ভুত, বলা ভালো উদ্বেগের চিত্র! সম্প্রতি বিবিসি হতদরিদ্র এক আফগান পরিবারকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যা ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বে। কারণ, চরম দারিদ্র্য সত্ত্বেও ওই পরিবারের সদস্যসংখ্যা বর্তমানে ৬৩। যার মধ্যে ৫৮ জনই শিশু। রয়েছেন চার সতীন। সকলের পেট চালানোর ভার রয়েছে পরিবারের মাথা মুহম্মদ সাদেকের উপর।
আফগানিস্তানের উরুজ়গান প্রদেশে মাটির তৈরি বাড়িতে ৫৮ সন্তান এবং চার বউকে নিয়ে সংসার মুহম্মদের। যদিও আফগান পুরুষদের একাধিক স্ত্রী এবং অনেকগুলি সন্তান থাকা কোনও নতুন বিষয় নয়। তবে, আফগানিস্তানের বড় পরিবারগুলির মধ্যে মুহম্মদের পরিবার অন্যতম। তাই, এ নিয়ে এত চর্চা।
০৪ / ১৫
মুহম্মদের সন্তানদের মধ্যে কনিষ্ঠটির বয়স মাত্র তিন মাস। জানা গিয়েছে, তাঁর আরও ১২টি সন্তান ছিল! কিন্তু, রোগভোগে তাদের মৃত্যু হওয়ায় ভাই-বোনের সংখ্যা আপাতত ৫৮। তা না হলে সেটি ৭০ হত! যদিও ৫৮ সন্তানের পেট চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন মুহম্মদ।
০৫ / ১৫
বর্তমানে মুহম্মদের বয়স ৫৭। একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করে সকলের পেট চালান তিনি। একটি গাড়ি বিক্রি করার জন্য কমিশন হিসেবে মুহম্মদ হাজার আফগান মুদ্রা পান। সেই টাকায় এই বিরাট সংসার টানতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে মুহম্মদকে।
০৬ / ১৫
পাঁচ বছর আগে আফগানিস্তানের ক্ষমতা পুনরায় দখল করেছিল তালিবান। তার পর থেকে মহিলাদের উপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সে দেশে মেয়েরা ষষ্ঠ শ্রেণির পরে আর স্কুলে যেতে পারে না। অধিকাংশ চাকরিতেই মহিলাদের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পুরুষ সঙ্গী ছাড়া তাঁরা বাড়ির বাইরেও বেশি দূর যেতে পারেন না। ফলত, মুহম্মদের স্ত্রীদেরও রোজগার করার কোনও উপায় নেই। একমাত্র মুহম্মদের রোজগারের উপর ভরসা রেখেই পরিবারকে দিন গুজরান করতে হয়।
০৭ / ১৫
বিবিসি-কে মুহম্মদ জানিয়েছেন, এতগুলি সন্তান থাকায় তিনি তাদের সকলের নামও মনে রাখতে পারেন না। প্রতি রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে মুহম্মদ তাঁর সন্তানদের গুনে দেখে নেন। সকলে বাড়িতে আছে কি না, সেটি যাচাই করে নেওয়ার জন্যই মুহম্মদ এই পন্থা মেনে চলেন। তেমনই এক রাতে মুহম্মদ দেখেন, খাবার টেবিলে এক সন্তান অনুপস্থিত। তখন তাঁর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। কারণ, সেই সন্তান পুত্র না কন্যা, সেটাই ঠাওর করে উঠতে পারছিলেন না মুহম্মদ। এর পর মুহম্মদের এক স্ত্রী তাঁর সংশয় কাটাতে সাহায্য করেন।
০৮ / ১৫
মুহম্মদের সন্তানদের সকলের পায়ে জুতোজোড়াও জোটে না। অনেকেই খালি পায়ে ঘুরে বেরায়। কারণ, এতগুলি শিশু-কিশোরের জন্য খাবার জোগাড় করতেই যেখানে বেগ পেতে হয়, সেখানে প্রত্যেকের জন্য একজোড়া করে জুতো কেনা মুহম্মদের পরিবারের কাছে বিলাসিতা-সম। এমনকি, মুহম্মদদের বাড়ির অবস্থাও নেহাতই খারাপ। মাটির ভাঙা দেওয়ালের বাড়িতে দরজা-জানলার ব্যবস্থা ঠিক মতো নেই। ফিনফিনে সাদা রঙের পর্দা দিয়ে আটকানো হয় সূর্যের আলো, ঝড়-বৃষ্টি।
০৯ / ১৫
রান্না করার জন্য জ্বালানির কাঠ কেনার ক্ষমতাও সবসময় থাকে না মুহম্মদের পরিবারের কাছে। সেই সময় কাগজ পুড়িয়ে রান্না করতে হয় তাঁর স্ত্রীদের। রান্নার দায়িত্ব রয়েছে মুহম্মদের দুই স্ত্রীর উপর। তাঁরাই পরিবারের সকলের জন্য রান্না করেন। সকাল এবং সন্ধ্যা, দু’বেলা রান্না করা হয়। তবে, মাঝেমধ্যেই মুহম্মদের বাচ্চাদের ক্ষুধার্ত পেট নিয়ে ঘুমোতে যেতে হয়। কারণ, কপালে খাবার জোটে না। অথবা, খাবার পেলেও তা পেট ভরানোর মতো যথেষ্ট পরিমাণে পায় না তারা।
১০ / ১৫
মুহম্মদ প্রথম যখন বিয়ে করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। মুহম্মদের স্ত্রীদের বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৬-র মধ্যে। মুহম্মদ তাঁর সন্তানদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্ত্রীদের কম বয়সকেও দায়ী করেন। তাঁর মতে, স্ত্রীরা কমবয়সি হওয়ায় সন্তানের ঠিক মতো যত্ন নিতে পারতেন না। এ বিষয়ে অনভিজ্ঞ ছিলেন তাঁর সে সময়কার কিশোরী স্ত্রীরা। সেই কারণে যক্ষ্মা, হাম প্রভৃতি রোগে মৃত্যু হয় একের পর এক সন্তানের। মুহম্মদ এবং তাঁর স্ত্রীদের কাছে এই ঘটনাগুলি ছিল অত্যন্ত বেদনার।
১১ / ১৫
বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মুহম্মদ বিবিসি-কে বলেছেন, আর্থিক অবস্থা এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করবে জানলে তিনি এতগুলি সন্তানের জন্ম দিতেন না! বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়াতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে কী দিন আসতে চলেছে, সে ভাবনা সেই সময় তাঁর মাথায় আসেনি।
১২ / ১৫
তবে, এখনও কেন মুহম্মদ সন্তানের জন্ম দেওয়ায় রাশ টানছেন না, সে বিষয়ে বিবিসি-কে কিছু জানাননি। তবে, বাবা হিসেবে নিজের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে না পারার আক্ষেপ অকপটে স্বীকার করেছেন মুহম্মদ। তাঁর পরিবারের এই দুর্দশা আবারও একবার আফগানিস্তানের মহিলা এবং শিশুদের অবস্থা নিয়ে চিন্তার উদ্রেক ঘটাচ্ছে। জাতিসংঘের করা সমীক্ষা অনুয়ায়ী, আফগানিস্তানের প্রতি চার জনের মধ্যে তিন জনই নিজেদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে অক্ষম।
১৩ / ১৫
একই সঙ্গে, এই ঘটনা ফের একবার আফগানিস্তানে ব্যাপকভাবে প্রচলিত বাল্যবিবাহকেও আলোচনা এবং উদ্বেগের বিষয় করে তুলছে। ইউনিসেফের ২০২৩ সালে করা সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, সে দেশের ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সি চল্লিশ লক্ষেরও বেশি নারীর ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। যা সে দেশের বাল্যবিবাহের সমস্যার ব্যাপকতাকে প্রকাশ করছে।
১৪ / ১৫
চলতি বছরের ৫ অক্টোবর আফগানিস্তানে নারী ও কিশোরীদের অধিকার খর্ব করার অভিযোগে চার শীর্ষ তালিবান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার কথা প্রকাশ্যে এনেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। তাঁদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। আফগানিস্তানে নারীর শিক্ষা, স্বাধীনভাবে চলাফেরা এবং অন্যান্য মৌলিক অধিকারের উপর তালিবান সরকারের আরোপিত বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।
১৫ / ১৫
ভবিষ্যতে আদৌ আফগানিস্তানের এই অবস্থার কোনও পরিবর্তন ঘটবে কি না, সেখানকার মহিলাদের অবস্থার উন্নতি হবে কি না, তা সময়ই বলতে পারবে। মুহম্মদের পরিবারের ভাগ্যও কোনও দিন ফিরবে কি না, তার উত্তরও রয়েছে সেই সময়ের গর্ভেই। যদিও তেমন সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট মহলের।
সব ছবি: সংগৃহীত।
পরবর্তী গ্যালারি
ধন-সম্পদের দেবীই যখন ভয়ংকরী যোদ্ধা, কোলাসুরকে বধ করতে কী রূপ ধরেছিলেন মহালক্ষ্মী?
দেবী লক্ষ্মী মানেই সৌম্য, স্নিগ্ধ রূপ নয়। অধর্মের বিনাশে তিনিই ধারণ করেছিলেন অষ্টাদশভুজা যোদ্ধাদেবীর রূপ। মহারাষ্ট্রের কোলাপুরের মহালক্ষ্মী বা অম্বাবাইকে ঘিরে প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনিতে রয়েছে সেই ভয়ংকরী দেবীসত্তার পরিচয়।
আনন্দ উৎসব ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১৫
০১ / ১০
দেবী লক্ষ্মী বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে শান্ত, স্নিগ্ধ, সৌম্য এক দেবীমূর্তি। যাঁর কৃপায় সংসারে আসে শ্রী, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য। কিন্তু দেবীর সত্তা কি কেবল এই কোমল রূপেই সীমাবদ্ধ? পৌরাণিক আখ্যান বলছে, প্রয়োজনে তিনিই ধারণ করেন ভয়ংকরী যোদ্ধার রূপ। অধর্মের বিনাশ এবং বিশ্বসংসারের ভারসাম্য রক্ষায় তাঁর সেই উগ্র, পরাক্রমশালিনী সত্তার পরিচয় মেলে মহারাষ্ট্রের কোলাপুরের মহালক্ষ্মী বা অম্বাবাইকে ঘিরে প্রচলিত কাহিনিতে।
০২ / ১০
কোলাসুরের তপস্যা ও ব্রহ্মার বরদান: পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, ব্রহ্মার তিন অসুরপুত্র ছিলেন গয়াসুর, লবণাসুর ও কোলাসুর। তাঁদের মধ্যে গয়াসুর ও লবণাসুর ছিলেন অত্যন্ত অত্যাচারী। শ্রীবিষ্ণু গয়াক্ষেত্রে গয়াসুরকে এবং লবণালয়ে লবণাসুরকে দমন করেন। দুই ভাইয়ের পরিণতিতে শোকাহত কোলাসুর প্রতিহিংসার আগুনে দগ্ধ হয়ে শতবর্ষ ধরে কঠোর তপস্যায় নিমগ্ন হন। কোলাসুরের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে ব্রহ্মা তাঁকে তিনটি বর দেন—অখণ্ড রাজ্য, বজ্রকঠিন দেহ এবং পুরুষের হাতে অবধ্যতা। বরলাভের পর কোলাসুর দক্ষিণ দেশের অধিবাসী রাক্ষসদের পরাজিত করে তাদের রাজ্য অধিকার করেন। সেই রাজ্যের নাম হয় রাক্ষসপুর।
০৩ / ১০
দীর্ঘ তপস্যার ফলে একসময় কোলাসুরের মধ্যে পরিবর্তন আসে। দেবতাদের প্রতি বিদ্বেষ ত্যাগ করে তিনি দেবী মহালক্ষ্মীর আরাধনায় মনোনিবেশ করেন। কিন্তু তাঁর চার পুত্রের চরিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। কোলাসুর বৃদ্ধ হয়ে পড়তেই প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করে তারা।
০৪ / ১০
করবীরাসুরের উত্থান, দেবতাদের প্রতিরোধ: কোলাসুরের জ্যেষ্ঠ পুত্র করবীরাসুর পিতার রাজ্যের নাম বদলে নিজের নামানুসারে রাখেন করবীরপুর। এরপর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলিও দখল করতে উদ্যত হন তিনি। তাঁর অত্যাচার ক্রমশ অসহনীয় হয়ে উঠলে হস্তক্ষেপ করেন মহাদেব। অসুরদের বধ করেন তিনি। পুত্রদের মৃত্যুতে কোলাসুরের মনে ফের জেগে ওঠে প্রতিশোধের আগুন। তিনি আবার তপস্যা শুরু করেন। তবে এবার তাঁর ক্ষোভের লক্ষ্য স্বয়ং আরাধ্যা দেবী মহালক্ষ্মী। দেবীর কৃপায় তাঁর চার পুত্রের জন্ম হয়েছে, অথচ অন্য দেবতারা তাঁদের বধ করতে সক্ষম হলেন—এই অভিযোগেই দেবীর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠেন তিনি।
০৫ / ১০
কোলাসুরের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে দেবী তাঁকে বর দেন। সেই বর পেয়ে ফের অপরাজেয় হয়ে ওঠেন অসুররাজ। পুত্রদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন তিনি। পাশাপাশি শর্ত দেন, আগামী একশো বছর দেবী যেন তাঁকে বাধা না দেন। এই সময়সীমার মধ্যেই নিজের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চেয়েছিলেন কোলাসুর।
০৬ / ১০
অষ্টাদশভুজা মহালক্ষ্মীর আবির্ভাব: একশো বছর অতিবাহিত হলে সিংহের পৃষ্ঠে আরোহণ করে ফের আবির্ভূতা হন দেবী মহালক্ষ্মী। তবে এ বার তাঁর রূপ আর সৌম্য গৃহলক্ষ্মীর নয়। এ বার তিনি দুর্জয় শক্তির প্রতীক, অষ্টাদশভুজা এক যোদ্ধাদেবী। দেবীর আঠারো হাতে শোভা পাচ্ছিল বিভিন্ন অস্ত্র ও সামগ্রী—কমণ্ডলু, পানপাত্র, ধনু, খেটক, পট্টিশ, শক্তি, পাশ, ঘণ্টা, শঙ্খ, পরশু, ত্রিশূল, চক্র, গদা, বজ্র, খড়্গ, শূল, পদ্ম ও অক্ষমালা। তাঁর এই বহুভুজা রূপ যেন একই সঙ্গে সৃষ্টি, সংহার, রক্ষা ও ন্যায়প্রতিষ্ঠার বহুমাত্রিক শক্তির প্রতীক।
০৭ / ১০
ভয়ংকর যুদ্ধের পর দেবী কোলাসুরকে পরাজিত করেন। কথিত আছে, মৃত্যুর আগে কোলাসুর দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন, তাঁর নাম যেন এই ক্ষেত্রের সঙ্গে চিরকাল যুক্ত থাকে। দেবী সেই প্রার্থনা মঞ্জুর করেন। কোলাসুরের নামানুসারেই স্থানটির নাম হয় কোলাপুর।
০৮ / ১০
কোলাপুরের অম্বাবাই, শক্তির আর এক পরিচয়: মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে অধিষ্ঠিত দেবী মহালক্ষ্মী স্থানীয় মানুষের কাছে বিশেষ ভাবে পরিচিত অম্বাবাই নামে। শক্তি-উপাসনার পরম্পরায় এই মন্দিরের গুরুত্ব অপরিসীম। পীঠনির্ণয়তন্ত্র-এ বর্ণিত একান্ন শক্তিপীঠের তালিকার সঙ্গেও কোলাপুরের নাম যুক্ত বলে প্রচলিত। সংশ্লিষ্ট পীঠবর্ণনা অনুসারে, এখানে সতীর নয়ন পতিত হয়েছিল। দেবীর ভৈরবের নাম ক্রোধীশ।
০৯ / ১০
পীঠমাহাত্ম্যের বর্ণনায় দেবী এখানে উদীয়মান সূর্যের মতো উজ্জ্বল, ত্রিনয়না, চতুর্ভুজা এবং বিবিধ অলংকারে ভূষিতা। তাঁর মস্তকে শোভা পায় নাগ। চার হাতে রয়েছে রক্তপাত্র, গদা, শ্রীফল ও খেটক।
১০ / ১০
কোলাপুরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মহালক্ষ্মী তাই কেবল ধনসম্পদ ও সৌভাগ্যের পরিচিত দেবী নন। তিনি শক্তি, সাহস এবং অশুভের বিরুদ্ধে প্রতিরোধেরও প্রতীক। তাঁর এই রূপ মনে করিয়ে দেয়, দেবীর সৌম্য সত্তা যেমন আশ্রয় ও কল্যাণের প্রতিশ্রুতি বহন করে, তেমনই তাঁর ভয়ংকরী রূপ অন্যায় ও অধর্মের বিনাশে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)
