কালবেলা · আন্তর্জাতিক
মার্কিন সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা
১৭/১০/২০২৬

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। শুক্রবারের এ হামলায় কয়েকজন ফিলিস্তিনির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক নারী সাংবাদিকও আহত হয়েছেন। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, আবু ফালাহ গ্রামের বাসিন্দারা পাকা জলপাই সংগ্রহ করতে পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত বাগানে জড়ো হয়েছিলেন। এ সময় মুখোশ পরা কয়েকজনসহ প্রায় ৮০ জন বসতি স্থাপনকারী পাহাড় থেকে নেমে এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে গ্যাসের ক্যানিস্টার ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীদের কেউ কেউ গুলতির সাহায্যে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। এ সময় ফিলিস্তিনিরা পাহাড়ের নিচের দিকে সরে যান। পরে তারাও বসতি স্থাপনকারীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করেন।
ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বসতি স্থাপনকারীদের মারধরে ৬৩ বছর বয়সী এক নারী ও ৪০ বছর বয়সী এক পুরুষ আহত হন। তাদের চিকিৎসা দিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট।
আহত নারীদের মধ্যে রয়েছেন দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ফটোসাংবাদিক হেইডি লেভিন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সাংবাদিকতা করেছেন।
ঘটনার ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তি লেভিনকে লাঠি দিয়ে আঘাত করছেন। একপর্যায়ে তাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়। সেখানে উপস্থিত অন্য সাংবাদিক ও ফিলিস্তিনিরা তার কাছে এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি ভালো নেই। তারা আমার সব জিনিস নিয়ে গেছে।’
হাসপাতালের শয্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় লেভিন বলেন, হামলাকারীরা তাকে আক্রমণ করে মাটিতে ফেলে দেয়। তার ভাষায়, ‘ভাগ্যক্রমে আমার শরীরে সুরক্ষাবর্ম ও মাথায় হেলমেট ছিল। তা না হলে সম্ভবত আমি আর এখানে থাকতাম না। তারা আমাকে বারবার লাথি মারছিল।’
লেভিন জানান, তার ফিলিস্তিনি সহকর্মীরা এগিয়ে এসে বাধা দিলে হামলা বন্ধ হয়। পরে চিকিৎসকেরা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে প্রথমে আবু ফালাহর একটি ক্লিনিকে এবং পরে রামাল্লার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
এদিকে, এ সহিংসতার ঘটনা তদন্তের কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও পুলিশ।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
মূল প্রতিবেদনে যান ↗