জেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ময়মনসিংহ জেলার ১৪টি উপজেলার ১০ পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন এলাকাসহ মোট ২৫৭ মন্দিরে আর্থিক সহযোগিতা হিসাবে সরকারি অর্থে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এতে সর্বমোট ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকার এই অনুদান বিতরণ করা হয়। এ কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ে প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবের আনন্দে নতুন মাত্র যোগ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে সরকারি সহায়তা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পূজামন্ডপের জন্য আর্থিক বরাদ্দ ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে এবার ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। প্রতিটি পূজামন্ডপের জন্য সাধারণ বরাদ্দের চাল ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজিতে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পরিষদ, ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে পূজামন্ডপগুলোতে সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জেলার ১৪টি উপজেলা, ১০টি পৌরসভা এবং ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এলাকার ২৫৭টি পূজামন্ডপে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। এর আগে এবারের মতো সরকারি অনুদান আর কখনো পাইনি বলেও স্বীকার করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন, যোগ করেন তিনি।
বিএনপি গঠিত পূজা পর্যবেক্ষন টিমের অন্যতম এই সদস্য আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামল এবং অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় পেরিয়ে এবার নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে শারদীয় দুর্গোৎসব আরও ব্যাপক পরিসরে, উৎসাহ, উদ্দীপনা ও মহাসমারোহে উদযাপিত হচ্ছে। উৎসবের আয়োজন সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকারি ছুটি বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সহজতর করা এবং সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের ইতিবাচক অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শঙ্কর সাহা জানান, এবারের দুর্গোৎসবে ময়মনসিংহ জেলায় মোট পূজাপন্ডপ হয়েছে ৮১৬টি। এর মধ্যে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৮৮টি এবং সদর উপজেলায় ৪৪টি মন্ডপ রয়েছে। এসব পূজামন্ডপে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে, বলেও তিনি দাবি করেন।
শঙ্কর সাহা বলেন, এবারের পূজামন্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজির বিহীন। মৎস দপ্তর, তুলা উন্নয়ন থেকে সরকারের সকল দপ্তর এবার পূজা আয়োজনে সম্পৃক্ত হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে সরকারি বরাদ্দ এবং ছুটি। এছাড়াও খোদ প্রধানমন্ত্রী পূজা পর্যবেক্ষনে সফরে বেরিয়েছেন, এটিও ব্যতিক্রম। এর আগে এবারের মতো পূজা উৎসবে সরকারিভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার নজির নেই।
