কোচের সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিভেদ তৈরির ঘটনা এবারই নতুন নয়। এর আগেও ক্লাব ফুটবলে কোচ-শিষ্যের মাঝে দ্বন্দ্ব দেখা গিয়েছিল। পর্তুগাল কোচ জর্জে জেসুসের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় শাস্তি পেয়েছেন এই বড় তারকা। এরই মাঝে ম্যাচে ঠিকমতো না দৌড়ানো, অনুশীলনে ফাঁকিসহ রোনালদোর দিকে নানা অভিযোগের তির ছুড়লেন সাবেক কোচ।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে দ্বিতীয় দফায় যোগ দেওয়ার পর তৎকালীন কোচ এরিক টেন হাগের সঙ্গে পর্তুগিজ তারকার শীতল সম্পর্কের কথা কারও অজানা নয়। তার একাদশে জায়গা হারানোর কারণেই চুক্তি বাতিল করে রোনালদো ইউনাইটেড অধ্যায় শেষ করেছেন বলে মনে করা হয়। যা নিয়ে পরেও উভয়পক্ষ পরস্পরের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। জাতীয় দলে সিআরসেভেন যখন আবারও একই পরিস্থিতির মুখে, তখন ফের মুখ খুললেন টেন হাগ।
আরও পড়ুন
২০২২ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচের দায়িত্ব নেন টেন হাগ। প্রথম মৌসুমেই দলকে ইংলিশ লিগ কাপ জেতান তিনি। ২০২৪ সালে জেতেন এফএ কাপও। তবে একই বছরের অক্টোবরে তাকে বরখাস্ত করে ক্লাবটি। সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনালদোর সঙ্গে বিরোধের নেপথ্যের ঘটনাগুলো তুলে ধরেছেন ডাচ এই কোচ। তার ভাষায়, রোনালদোর বিদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। তবে দলের স্বার্থ ও সম্মিলিত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল, যেখানে কোনো খেলোয়াড়ের নাম কিংবা অতীত অর্জন প্রভাব ফেলতে পারেনি।
রোনালদোর কারণে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতো না জানিয়ে টেন হাগ বলেন, ‘সে দলকে হতাশ করেছে, আমাকেও হতাশ করেছে। কারণ আমরা তাকে নিয়ে পরিকল্পনা করেছিলাম। ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার আগে আমি পর্তুগালে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছি। দল নিয়ে আমার লক্ষ্য কী সেটা তাকে জানিয়েছিলাম। নিঃসন্দেহে সে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আমি তাকে অনেক সম্মান করতাম। কিন্তু সেই সময়ে একজন কোচ হিসেবে আমাকে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে এবং যেসব খেলোয়াড়কে আমি পছন্দ করি, তাদের দলে রাখতে হয়েছে।’

টেন হাগের দাবি, রোনালদো অনুশীলনের কয়েকটি সেশন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। অনুশীলনে অংশ নিলেও তার হৃদ্স্পন্দনের হার প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছাত না। এমনকি ২০২২ সালের আগস্টে ব্রেন্টফোর্ডের কাছে ৪-০ গোলে হারের পর খেলোয়াড়দের দিয়ে যে আলোচিত দৌড়ের অনুশীলন করিয়েছিলেন টেন হাগ, সেখানে নির্ধারিত তিন ল্যাপের মধ্যে মাত্র দুটি সম্পন্ন করেছিলেন রোনালদো।
টেন হাগ বলেন, ‘আমি তাকে এ বিষয়ে সরাসরি বলেছি। অনেকবার বলেছি, “রোনি, তোমাকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিতে সবাই তোমার জন্য কাজ করতে চায়। কিন্তু তুমি যদি নিজে বক্সে পৌঁছাতে না পারো, তাহলে গোল করবে কীভাবে?” সে এটা করতে সক্ষম ছিল না। আমি নাকি তার কাছ থেকে প্রেসিং আশা করতাম, আর সে তাতে ক্লান্ত হয়ে পড়ত, বিষয়টিকে এভাবে উপস্থাপন করা ভুল। আসলে সে তা পারছিল না। বল নিজেদের দখলে থাকুক কিংবা না থাকুক, কোনো অবস্থাতেই সে দৌড়াত না। এর কারণ ছিল সে নিজেকে প্রস্তুত করেনি।’
টেন হাগের মতে, ‘প্রতিটি শীর্ষ দলকেই নিজেদের সেরা খেলোয়াড়কে ঘিরে পরিকল্পনা করতে হয়। তবে সেই সেরা খেলোয়াড়কেও দলের জন্য কাজ করতে হবে।’ রোনালদোর অনুশীলনসংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও কথা বলেছেন টেন হাগ। ডাচ কোচ বলছেন, সতীর্থদের অনুশীলনে নিজেদের শক্তি সঞ্চয় করে রাখারও পরামর্শ দিতেন পর্তুগিজ তারকা।

ইউনাইটেডের সাবেক এই কোচের অভিযোগ, ‘সে খেলোয়াড়দের বলত, “অনুশীলনে নিজেদের শক্তি বাঁচিয়ে রাখো।” তুমি যদি শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট থাকো, তাহলে বিষয়টি আমি বুঝতে পারি। তোমার অনুশীলনে আরও সেশন আছে, তাই শক্তি বাঁচিয়ে রাখতে পারো। কিন্তু তার আগে সঠিক ফিটনেসের পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য তোমাকে অনুশীলন করতে হবে। খেলোয়াড়দের বড় দায়িত্ব রয়েছে, তাদের সেসব দায়িত্ব পালন করতে হবে। কারও কারও কাছে ফুটবল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নয়। আর ইউনাইটেডও কয়েকজনের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল না।’
এএইচএস
