বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, ‘অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের সম্ভাবনাকে কোনো হটকারিতা বা ষড়যন্ত্রের ফাঁদে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।বাংলাদেশকে নিয়ে দেশি-বিদেশি কোনো অপশক্তির তৎপরতাও আর বরদাস্ত করা যাবে না। পতিত আওয়ামী লীগ নিয়ে বেশী দড়ি টানাটানি আখেরে বুমেরাং হয়ে উঠতে পারে।পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতির মধ্য দিয়ে পরোক্ষভাবে তারা এখনও দেশের রাজনীতির নিয়ামক শক্তি করে তুলছেন কি না ভেবে দেখা দরকার।’
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির দুই দিনব্যাপী সভার প্রথম অধিবেশনে দলের রাজনৈতিক প্রতিবেদন উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংসদের ভেতরে বা বাইরে তাদের আর্থসামাজিক কর্মসূচি বা উন্নয়ন এজেন্ডা নিয়ে বিতর্ক করতে দেখা যায় না। তারা এখনও দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার ও ভাইরাল হবার ব্লেম গেইমের পুরানো রাজনীতির মধ্যেই বন্দি হয়ে আছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই ও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান রাজনীতিকদের অধিকাংশের মনসত্বত্ত্বে তেমন কোন পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি, যে কারণে প্রত্যাখ্যাত পুরনো রাজনীতির ঘেরাটোপের মধ্যেই তারা বন্দি হয়ে আছেন।’
দেশব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব নিরাপদে ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে যে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় আর একবার তা দেখা গেল। কিন্তু দেশব্যাপী মানুষের জান মালের নিরাপত্তা এখনও নিশ্চিত হয়নি; সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকা এখনও বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।মাত্র গত এক বছরে ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে এসেছে। কয়েক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নেমে আসার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি বলেন, জনকল্যাণে অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে এখনও তার সুফল পৌঁছেনি। এই ব্যাপারে সরকারকে দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে হবে। সুশাসন নিশ্চিত করতে মানুষ হয়তো সরকা আরও কিছু সময় দেবে, কিন্তু তা অনিশ্চিত সময়ের জন্য নয়।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে নিজের যোগদানের অভিজ্ঞতা কেন্দ্রীয় কমিটিতে তুলে ধরেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক।
সাইফুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সাধারণ সম্পাদক উত্থাপিত প্রতিবেদনের ওপর বক্তব্য দেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আবু হাসান টিপু, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক মাহমুদ হোসেন, রাশিদা বেগম, মাহবুবুল করিম টিপু, সজীব সরকার রতন, সাইফুল ইসলাম, স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা, সাইফুর রেজা মামুন, মীর রেজাউল আলম, ফিরোজ আলী,আওয়াল মাহমুদ, জামাল সিকদার, আবুল কালাম আজাদ, আইয়ুব আলী, মোহাম্মদ স্বাধীন মিয়া প্রমুখ।
সভার শুরুতে পার্টির প্রয়াত নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান ও চিত্রশিল্পী সাঈদা কামালসহ প্রয়াত নেতা কর্মীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
