Published on
:
2 min read
এই সময়: কমিটি গড়ে দিয়েছিল হাইকোর্টই। যে কমিটির মাথায় অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতি। বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা ‘ভিবজিওর’–এর বাজেয়াপ্ত হওয়া যাবতীয় সম্পত্তি রয়েছে ওই কমিটির হেফাজতে। এবং আদালত জানিয়েছিল, তাদের গড়ে দেওয়া কমিটির হাতে সম্পত্তি থাকা মানে আখেরে হাইকোর্টের হেফাজতেই থাকা। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের কমিটির হাতে থাকা ভিবজিওর–এর সেই সম্পত্তি আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কী করে বেআইনি ভাবে বিক্রি হয়ে গেল, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মঙ্গলবার ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট)–কে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ওই বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার শাখা কোম্পানিগুলির ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে তাদের নামে সম্পত্তি থাকলে, সে সবও দ্রুত বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ এ দিন দিয়েছে বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি সুদীপ দেবের ডিভিশন বেঞ্চ।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তালুকদার কমিটির হেফাজতে থাকা বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার সম্পত্তি অবৈধ ভাবে বিক্রির অভিযোগ নিয়ে মামলাটি এ দিন উঠলে রাজ্য সরকার জানায়, ডিরেক্টরেট অফ ইকনমিক অফেন্সেস-কে দিয়ে ইতিমধ্যেই একটি প্রাথমিক তদন্ত করানো হয়েছে। তাদের পেশ করা ‘প্রাইমা ফেসি’ (প্রাথমিক) রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে দেখা গিয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সম্পত্তি নিয়ম ভেঙে হাতবদল করা হয়েছে। শুধু উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সের ৫৪ কোটি টাকার সম্পত্তিই নয়, রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সম্পত্তিও এ ভাবেই বেহাক হয়েছে বলে সরকারি কৌঁসুলি রিপোর্ট দিয়ে আদালতে স্বীকার করেন। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্টের দেওয়ার জন্য রাজ্যের তরফে আরও কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছে।
আমানতকারীদের আইনজীবী শুভাশিস চক্রবর্তী ও অরিন্দম দাসের দাবি, অন্য বহু বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার মতো ভিবজিওর–এরও অনেক শাখা সংস্থা রয়েছে, যাদের এখনও ছঁুতে পারেনি হাইকোর্ট বা হাইকোর্ট গঠিত কমিটি। সেই সব সংস্থার নামে হাতবদল করে, নিষেধাজ্ঞার ফাঁকফোকর গলে সম্পত্তিগুলি অন্যান্য নামে থাকা কিছু সংস্থায় ঘুরিয়ে অবাধে রেজিস্ট্রেশন ও বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। কমিটির নজরদারি এড়িয়ে এই বিপুল অঙ্কের টাকা তছরুপের অভিযোগ বেশ কিছু দিন ধরেই তুলছিলেন আমানতকারীরা।
আগামী ২৬ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি। সে দিন রাজ্য সরকার, বিচারপতি তালুকদার কমিটি, ইডি এবং রাজ্যের আর্থিক দুর্নীতি দমন শাখাকে গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে ও ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের সবিস্তার রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।