

কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে কুমিল্লায় নিহত কিশোরী জান্নাতুল তাজমিন এর ' কথিত বন্ধু ' রিয়াজ উদ্দিন (২১) কে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কলাতলী চন্দ্রিমা উদ্যান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মাদ আলী বলেন, আমরা কৌশলে তাকে আটক করেছি। উর্ধত্বন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজমিন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রাজুর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে।
এর আগে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
দেশের সয়াবিন তেলে সিসা-নিকেল-কপার-আর্সেনিক
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পাওয়া সয়াবিন তেলে ক্ষতিকর মৌলের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণায়। ঢাকার চারটি পাইকারি বাজার থেকে সংগ্রহ করা ২১টি নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ২০টি নমুনায় সিসার মাত্রা এবং সব নমুনায় আর্সেনিক ও তামার মাত্রা অনেক বেশি। এ ছাড়া ১৪টি নমুনায় নিকেলের মাত্রাও নির্ধারিত মানের বেশি পাওয়া গেছে। গত ৮ অক্টোবর জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস সাময়িকীতে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের গবেষকেরা যুক্ত ছিলেন। গবেষণায় ঢাকার মোহাম্মদপুর, মিরপুর, নিউমার্কেট ও কারওয়ান বাজার থেকে সংগ্রহ করা ২১টি সয়াবিন তেলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ছয়টি ছিল ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত তেল এবং ১৫টি ছিল খোলা তেল। গবেষকেরা সিসা, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, আর্সেনিক, পারদ, ম্যাঙ্গানিজ, নিকেল ও তামা এই আটটি মৌলের উপস্থিতি ও মাত্রা বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, সয়াবিন তেলের একটি নমুনায় সিসার মাত্রা ভোজ্য তেলের জন্য সহনীয় মাত্রার চেয়ে ১৯ গুণ ও নিকেলের মাত্রা প্রায় ২৪ গুণ পর্যন্ত বেশি ছিল। পরীক্ষিত নমুনাগুলোতে সিসার পরিমাণ প্রতি কেজিতে ০.০৪৮ থেকে ১.৫২৯ মিলিগ্রাম পাওয়া যায়। আর্সেনিকের মাত্রা প্রতি কেজিতে ০.১৫৫ থেকে ০.২৭৬ মিলিগ্রাম পাওয়া গেছে, যা গবেষণায় তুলনার জন্য ব্যবহৃত এফএও-ডব্লিউএইচওর সহনীয় মাত্রার চেয়ে ১.৫৫ থেকে ২.৭৬ গুণ বেশি। পরীক্ষিত ২১টি নমুনার সবগুলোতেই আর্সেনিকের মাত্রা ওই মান ছাড়িয়েছে। নিকেলের মাত্রা প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ২.৩৬৮ মিলিগ্রাম পাওয়া গেছে। যা সহনীয় মাত্রার ০.১ মিলিগ্রামের তুলনায় প্রায় ২৩.৬৮ গুণ বেশি। ২১টি নমুনার মধ্যে ১৪টিতে নিকেলের পরিমাণ ওই সীমা অতিক্রম করেছে। এ ছাড়া, তামার মাত্রা প্রতি কেজিতে ০.১০৭ থেকে ০.৮০৬ মিলিগ্রাম পাওয়া গেছে, যা সহনীয় মাত্রা ০.১ মিলিগ্রামের চেয়ে ১.০৭ থেকে ৮.০৬ গুণ বেশি। অর্থাৎ, সব নমুনাতেই তামার মাত্রা সহনীয় মানের চেয়ে বেশি ছিল। তবে ক্যাডমিয়ামের পরিমাণ প্রতি কেজিতে ০.০০৪ থেকে ০.০২৬ মিলিগ্রাম পাওয়া গেছে, যা সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রামের নিচে। গবেষণায় আটটি মৌলের মধ্যে ক্রোমিয়ামের গড় ঘনত্ব ছিল সর্বোচ্চ প্রতি কেজিতে ২.৩৫৮ মিলিগ্রাম। নমুনাভেদে এর মাত্রা ছিল ১.১১০ থেকে ৫.৬৪৩ মিলিগ্রাম। তবে ভোজ্য তেলে ক্রোমিয়ামের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক সীমা না থাকায় এই মাত্রাকে কোনো নির্ধারিত সীমা অতিক্রম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। সয়াবিন তেলে এসব মৌল কীভাবে এসেছে, তা এই গবেষণায় নিশ্চিত করা যায়নি। গবেষকদের মতে, সয়াবিনের উৎপাদন, মাটি ও সেচের পানি, তেল পরিশোধন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, যন্ত্রপাতির সংস্পর্শ, সংরক্ষণ এবং প্যাকেজিংয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে দূষণ ঘটতে পারে। তবে এসব সম্ভাব্য উৎস আলাদাভাবে পরীক্ষা না করায় নির্দিষ্ট কোনো উৎসকে দায়ী করা সম্ভব হয়নি। গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, গবেষণায় নমুনা ছিল মাত্র ২১টি ও এগুলো ঢাকার চারটি পাইকারি বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। নমুনাগুলো সারা দেশের বাজারের প্রতিনিধিত্ব করে না। তাই এই ফলাফলের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সব সয়াবিন তেলের মান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না। গবেষণায় প্যাকেটজাত ও খোলা তেলের মধ্যে দূষণের উৎস বা ঝুঁকির বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্যও পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে উৎপাদনকারী, উৎপাদনের চালান, কাঁচামালের উৎস ও পরিশোধনপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য সব নমুনার ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি। গবেষকেরা প্যাকেটজাত ও খোলা উভয় ধরনের সয়াবিন তেলের নিয়মিত পরীক্ষা, খাদ্যনিরাপত্তা বিধির কার্যকর প্রয়োগ এবং উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারের সুপারিশ করেছেন। পাশাপাশি ক্রোমিয়ামের বিভিন্ন ধরন আলাদাভাবে পরীক্ষা করে এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও নির্ভুলভাবে নিরূপণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: রাজু কক্সবাজারে, অটোরিকশাচালক সুমন কারাগারে
কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে ‘স্ত্রী’ পরিচয়ে রাত কাটিয়েছিলেন কুমিল্লায় ধর্ষণের পর হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫)। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর থেকেই কক্সবাজারে অবস্থান করছেন অভিযুক্ত প্রেমিক রাজু। অন্যদিকে, দ্রুত বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে রয়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া (৩৫)। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সচেতন মহল রাজুকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রেমের সম্পর্কের টানে অপ্রাপ্তবয়স্ক একটি মেয়েকে ফুসলিয়ে বাসা থেকে বের করা, ভুয়া পরিচয়ে হোটেলে রাত কাটানো এবং তথ্য গোপন করাও গুরুতর অপরাধ। তাকে আইনের আওতায় আনলে অনেক সত্য তথ্য বেরিয়ে আসবে। তবে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডে রাজুর সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য মেলেনি; ঘটনাটিতে অটোরিকশাচালক সুমন একাই জড়িত ছিলেন। কক্সবাজারের কলাতলীর তিনতলা একটি আবাসিক হোটেলের নিবন্ধন খাতা থেকে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে ৩০২ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেন তাজমিন। সেখানে তার নাম ‘তানজু আক্তার’ ও বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করে রিয়াজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রিয়াজের বাড়ি বান্দরবানের লামা এলাকায় উল্লেখ করা হয়। হোটেল সূত্রে জানা যায়, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ত্যাগ করেন। এরপর রিয়াজ ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের ৯০০ টাকার একটি টিকিট কেটে তাজমিনকে কুমিল্লার উদ্দেশে ট্রেনে বা বাসে তুলে দেন বলে তার এক সহকর্মী জানান। জানা গেছে, রিয়াজ গত তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করছেন। তবে ঘটনার পর থেকেই ছুটিতে গিয়ে মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন তিনি। পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এতে অভিমান করে সে বাসা থেকে বের হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে চলে যায়। সেখান থেকেই ফেসবুকে পরিচয় হওয়া রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাজমিন। রিয়াজ তাকে কক্সবাজারে আসার জন্য বিকাশে ৫০০ টাকা পাঠান। রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, কুমিল্লায় ফেরার পথেও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে কথা হচ্ছিল। এমনকি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিন চালকের তথ্য রিয়াজকে জানিয়েছিল। কিন্তু রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে গেলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরদিন গণমাধ্যমে হত্যার খবর দেখে রিয়াজ আত্মগোপনে চলে যান। কক্সবাজার থেকে ফিরে বাড়ি পৌঁছানোর পথেই সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়ার খপ্পরে পড়ে তাজমিন। গত ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানখেতের আইল থেকে তার নিথর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। আদালতে সুমন ধর্ষণের পর তাজমিনকে শ্বাসরোধে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, নিহত তাজমিনের মুঠোফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণসহ অন্যান্য বিষয়ে নিবিড় তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার আসামি আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। রাজুর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

সেবার মান বাড়লে চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী রোগীর সংখ্যা কমবে: রাষ্ট্রপতি
দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করা গেলে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমে আসবে। রোববার (১১ অক্টোবর) বঙ্গভবনে হেপাটোলজি সোসাইটি ঢাকা বাংলাদেশের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন হেপাটোলজি সোসাইটি ঢাকা বাংলাদেশের সভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। রাষ্ট্রপতি বলেন, পেশাজীবীদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করা উচিত, যাতে তারা আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম রাষ্ট্রপতিকে জানান, দেশেই এখন লিভার ট্রান্সপ্লান্টের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ডায়াবেটিস, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে দেশে ফ্যাটি লিভারের রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। পাশাপাশি হেপাটাইটিস-বি রোগীর সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এ সময় অধ্যাপক শাহিনুল আলম আসন্ন এশিয়ান প্যাসিফিক অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার (এপাসল) সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব এবং হেপাটোলজি সোসাইটি ঢাকা বাংলাদেশের সদস্য লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হলেন মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী। বর্তমানে তিনি অধিদপ্তরটির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) ৪৮তম সভার সুপারিশের ভিত্তিতে তাকে এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। গত রোববার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবু নাছের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারিত বেতনক্রমে তাকে এ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতির পর মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর পদবি হবে প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল)। গণপূর্ত অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ এ পদে তার পদোন্নতির মাধ্যমে অধিদপ্তরের প্রকৌশল ও উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হলো।

উচ্চতর ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থান ও গবেষণায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
বর্তমান সরকার উচ্চতর ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার দুপুরে গাজীপুরের বোর্ডবাজারে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম পরিচালনা ও গবেষণার জন্য বাজেট বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রেও সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে নবীন গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেকেন্ডের মধ্যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, কিন্তু সেই তথ্য নিখুঁত, উপযুক্ত ও নিরাপদ কি না, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব মানুষেরই। এআই দ্রুত গতিতে উত্তর দিতে পারে, কিন্তু সঠিক বিচারবোধই সেটিকে নির্ভরযোগ্য করে তোলে।’ গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি যেন দেশের মানুষ, কৃষক ও কারখানার শ্রমিকদের উপকারে আসে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাকে সাশ্রয়ী করে তোলে, সেই দিকে প্রকৌশলীদের লক্ষ্য রাখতে হবে। সততা, সামাজিক ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও ইসলামী মূল্যবোধ বজায় রেখে কাজ করতে হবে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সালে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এই আইইউটির মঞ্চে উপস্থিত ছিলাম। ১৯৭৮ সালে সেনেগালের ডাকারে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে কারিগরি শিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদিত হয়। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গাজীপুরে ৩০ একর জমি দান করেন এবং ১৯৮১ সালের ২৭ মার্চ ইয়াসির আরাফাত ও তৎকালীন ওআইসি মহাসচিব ড. হাবিব চ্যাটিকে সঙ্গে নিয়ে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।’ অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আইইউটির এই সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ। অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য ড. হোসেন আরাবি নূরসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট অতিথি, কূটনৈতিক, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবর্তনের প্রধান অতিথি গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তাদের কৌতূহলী মনোভাব বজায় রাখা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বাংলাদেশ ও বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহর সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ উপস্থিত ছিলেন। তারা গ্র্যাজুয়েটদের সততা বজায় রাখা, আজীবন শেখার মানসিকতা ধারণ করা এবং অর্জিত জ্ঞান সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। সমাবর্তনে ওআইসির ১৬টি সদস্য দেশের মোট ৬৫৯ জন গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ১৫৫ জন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৪৯ জন, মেকানিক্যাল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৪৭ জন, সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১২৬ জন, বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি ম্যানেজমেন্টে ৫৭ জন এবং টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন বিভাগে ২৫ জন ডিগ্রি অর্জন করেন।


