প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৪ পিএম
প্রায় ৬১৮ কোটি টাকা মূল্যের হীরাখচিত অন্তর্বাস (ব্রায়) পরে প্রথমবারের মতো ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের বার্ষিক ফ্যাশন প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন বিশ্বখ্যাত প্রসাধন ব্যবসায়ী ও রিয়েলিটি টিভি তারকা কাইলি জেনার। ব্যতিক্রমী এই সাজে প্রশংসা কুড়ানোর পাশাপাশি সমালোচনারও মুখে পড়েছেন তিনি।
রোববার অনুষ্ঠিত ওই ফ্যাশন প্রদর্শনীতে কাইলি জেনারকে প্রতিষ্ঠানটির বিখ্যাত ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’ পরে দেখা যায়। নকশাকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় পাচ কোটি ডলার মূল্যের এই অন্তর্বাসটি তৈরি করা হয়েছে ১৮ ক্যারেট সোনা ও চার হাজার ৪১০টি হীরা দিয়ে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ৬১৮ কোটি টাকা।
দীর্ঘদিন ধরে ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’ ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যাশন প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত। সাধারণত নির্বাচিত মডেলদের জন্য এই বিশেষ অন্তর্বাস পরার সুযোগকে সম্মানজনক অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এবার ২৯ বছর বয়সী কাইলি জেনারকে এই পোশাকের জন্য নির্বাচিত করায় তার অনেক ভক্ত আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তবে অভিজ্ঞ কোনো সুপারমডেলকে এ সুযোগ না দেওয়ায় অসন্তোষ জানিয়েছেন অনেকে। এ নিয়ে ফ্যাশনজগতে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিপণন বিশ্লেষক জোয়েল মারলিনারসনের মতে, কাইলি জেনারকে ঘিরে এই আয়োজন ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। তার ভাষ্য, ঘটনাটি মডেলিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির নিউজবিটকে দেওয়া বক্তব্যে মারলিনারসন বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রচলিত মডেল হওয়ার যোগ্যতার চেয়ে কে সবচেয়ে বেশি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন, সেটিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কাইলি জেনার এই পরিবর্তিত সময়ের তারকাদের একজন।
তার মতে, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কাইলির গভীর যোগাযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সক্রিয় উপস্থিতি এবং কার্দাশিয়ান পরিবারের রিয়েলিটি শো দেখতে দেখতে বড় হওয়া দর্শকদের কাছে তিনি সুপরিচিত মুখ।
তবে ফ্যাশনের ঐতিহ্যবাহী ধারার অনুসারীদের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। বিশেষ করে নাওমি ক্যাম্পবেলের মতো কিংবদন্তি মডেলদের সময়ের কথা যারা মনে রেখেছেন, তাদের অনেকের কাছে কাইলি জেনারকে এই বিশেষ সুযোগ দেওয়া ফ্যাশনের প্রচলিত ঐতিহ্য থেকে সরে আসার ইঙ্গিত হতে পারে।
কাইলি জেনারের এই অভিষেক তাই শুধু বিলাসবহুল পোশাকের প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। জনপ্রিয়তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং ফ্যাশনজগতে মডেল নির্বাচনের পরিবর্তিত মানদণ্ড নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
