সুবাস পেয়েও রেকর্ডটি প্রায় হারিয়ে ফেলেছিলেন ব্রেন্ডান টেইলর। তবে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ে সেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন তিনি। নিজের আদর্শ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে ছাড়িয়ে কীর্তি গড়তে পেরে দারুণ আপ্লুত অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান বললেন, আগামী বছর ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের অপেক্ষায় আছেন তিনি রোমাঞ্চ নিয়ে।
ত্রিদেশীয় সিরিজে শনিবার আবু ধাবিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮১ রানের ইনিংসটির পথে ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের রানের তালিকায় চূড়ায় পৌঁছে গেছেন টেইলর।
এই অর্জনটি তার ধরা দিতে পারত পাঁচ বছর আগেই। গ্রান্ট ফ্লাওয়ারের ৬ হাজার ৫৭১ রান পেরিয়ে টেইলর দুইয়ে উঠে গিয়েছিলেন ২০২১ সালে। ৬ হাজার ৭৮৬ রান নিয়ে সবার ওপরে থাকা অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারও ছিলেন নাগালেই। কিন্তু ফিক্সিংয়ের কারণে নিষেধাজ্ঞা পেয়ে থমকে যায় তার ক্যারিয়ার। ফ্লাওয়ারের চেয়ে তখন স্রেফ ১০২ রান পেছনে তিনি।
কিন্তু রেকর্ড তো দূরের কথা, মাদকে ডুবে একরকম হারিয়েই যান ক্রিকেটের জগৎ থেকে। আবার তিনি ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন, এমন ধারণা ছিল না সম্ভবত কারও। রেকর্ডটিও তাই তার হবে না বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল।
সেই টেইলর নিজের সঙ্গে লড়াই করে ক্রিকেট দুনিয়াকে চমকে দিয়ে গত বছর ফেরেন আন্তর্জাতিক আঙিনায়। ৪০ বছর বয়সে এখন রেকর্ডটিও নিজের করে নিলেন।
ফ্লাওয়ারের মতো কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অস্বস্তি কিছুটা আছে তার। তবে রেকর্ডের উচ্ছ্বাসও আছে।
“হ্যাঁ, দারুণ লাগছে। অ্যান্ডি (ফ্লাওয়ার) আমার খুব কাছের একজন, আমার এবং আরও অনেকের অনুপ্রেরণা। হয়তো ব্যাপারটা ঠিক মেনে নেওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু আমরা সবসময় তাকে সর্বোচ্চ সম্মান করি।”
রেকর্ডের দিনটিতে তার দারুণ ইনিংসটি জরুরি ছিল দলের জন্যও। ২৪ রানের মধ্যে প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে কাঁপছিল জিম্বাবুয়ে। টেইলর তখন ১৫০ রানের জুটি গড়েন আরেক অভিজ্ঞ ক্রেইগ আরভাইনের সঙ্গে।
টেইলর বললেন, আরভাইনের সঙ্গে ব্যক্তিগত বোঝাপড়া এখানে কাজে লেগেছে।
“ইনিংসটা মেরামত করা কতটা জরুরি ছিল, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছিলাম। পরস্পরকে খুব ভালোভাবে চিনি। সে আমার খুব বিশেষ একজন বন্ধু এবং তার সঙ্গে ক্রিজে অনেকটা সময় কাটাতে ভালো লেগেছে। আমার মনে হয় আমরা ১৫০ রান তুলেছি এবং এটা আমাদের যথেষ্ট ভালো অবস্থানে নিয়ে গেছে।”
এই ইনিংসটি প্রয়োজন ছিল টেইলরের আত্মবিশ্বাসের জন্যও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর নিজের অতীতের ছায়া হয়েই ছিলেন তিনি। ওয়ানডেতে পাঁচ ইনিংস খেলে ৪০ ছুঁতে পারেননি। তিনটি টেস্ট খেলে ফিফটি করতে পারেননি একটিও। টি-টোয়েন্টিতে দুর্বল বতসোয়ানার বিপক্ষে ৫৪ বলে ১২৩ রানের ইনিংস খেললেও অন্য ১১ ইনিংসে বলার মতো কিছু করতে পারেননি। অবশেষে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই ম্যাচে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারলেন।
মূলত আগামী বছর দেশের মাঠে বিশ্বকাপে খেলতেই ক্যারিয়ারের নতুন এই পথচলায় ছুটছেন টেইলর। ওয়ানডে বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে সবশেষ খেলেছে ২০১৫ আসরে। সেবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৯১ বলে ১২১ করার পর ভারতের বিপক্ষে তিনি করেছিলেন ১১০ বলে ১৩৮। পাকিস্তানের বিপক্ষে করেছিলেন ফিফটি। ছয় ম্যাচে ৪৩৩ রান করে তিনি ছিলেন দলের সর্বোচ্চ ও টুর্নামেন্টের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান করা ব্যাটসম্যান।
সেই স্মৃতি তার জন্য অনুপ্রেরণা বটে। তবে এবার দেশের মাঠে বিশ্বকাপ খেলতে পারাই তার বড় প্রেরণা।
‘এখন সময়টা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলাটা আমাদের জন্য ‘এক্সট্রা স্পেশাল’। আমরা এমন একটা পথে আছি, যেখানে আমরা প্রচুর ক্রিকেট খেলছি এবং এই ধারাবাহিকতা আমাদের বিশ্বকাপের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করবে। সামনে আমাদের কিছু দারুণ সিরিজ আসছে এবং আশা করি সেগুলো আমাদেরকে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে্’
