মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে সেলফি তোলার আবদার এক খুদের। সেই আবদার মেটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে তার আগে কিশোরকে দিলেন পড়াশোনায় মন দেওয়ার পরামর্শ। মনে করিয়ে দিলেন, এই বয়সে হাতে মোবাইল নয়, বই থাকাই উচিত। শনিবার রাতে হাওড়ার সালকিয়ায় এমনই এক মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার রাত আটটা নাগাদ সালকিয়ার কামিনী স্কুল লেনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হয়ে মৃত বিকাশ ভট্টাচার্যের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। শোকার্ত পরিজনদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে মোটরবাইকে উঠতে যাচ্ছিলেন শুভেন্দু। সেই সময় তাঁর কাছে ছুটে আসে এলাকার এক কিশোর। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তোলার আবদার জানায় সে। কিশোরের নাম জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। সে জানায়, তার নাম রাজদীপ পাল। এরপরই শুভেন্দু তাকে মোবাইল ব্যবহারের পরিবর্তে মন দিয়ে পড়াশোনা করার পরামর্শ দেন। মুখ্যমন্ত্রীর এমন উপদেশে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে রাজদীপ। তবে শেষ পর্যন্ত তার আবদার ফেরাননি শুভেন্দু। কিশোরকে কাছে টেনে জড়িয়ে ধরে সেলফি তোলেন তিনি। তারপর তাকে আদর করে মোটরবাইকে উঠে পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হাওড়ায় গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সন্ধ্যায় প্রথমে বিষ্ণুপুরে মৃত কলেজছাত্রী স্নেহা ভাণ্ডারীর বাড়িতে যান তিনি। পরে হাওড়ার সালকিয়ায় দুর্ঘটনায় মৃত বিকাশ ভট্টাচার্যর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। দুই পরিবারকেই আর্থিক সহায়তা ও পাশে থাকার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে জানান, চোরবাগানের ঘটনার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে। আসন্ন কালীপুজো ও দীপাবলিতে দুর্ঘটনা এড়াতে নতুন নিরাপত্তা নির্দেশিকা তৈরির কথাও ঘোষণা করেন তিনি। এদিনও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মৃত্যুর কোনও ক্ষতিপূরণ হয় না। তবু পরিবারটিকে আর্থিক সাহায্য করেছি। তাঁদের ভরসা দিতে এসেছি।”
চোরবাগানের দুর্ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার আশ্বাস দেন তিনি। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাষ্ট্রমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা, সাতগাছিয়ার বিধায়ক অগ্নীশ্বর নস্কর, ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পান্ডা এবং জেলাশাসক অভিষেক তেওয়ারি। এরপর হাওড়ার সালকিয়ায় বিকাশ ভট্টাচার্যর বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। বাড়ির কাছাকাছি গাড়ি থেকে নেমে মোটরবাইকে চেপে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী উমেশ রাই, জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া, পুর কমিশনার তেজস্বী রানা-সহ প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে পুজোর নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
