কক্সবাজারের ৩২৪টি মণ্ডপে এবার শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে। এসব মণ্ডপের ১৫৪টিতে প্রতিমা পূজা এবং ১৭০টিতে ঘটপূজা হবে। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ছয়টি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব শুরু হবে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
উৎসব ঘিরে পূজামণ্ডপগুলোর প্রস্তুতির পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান ঘিরে নিরাপত্তায়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কক্সবাজার জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু বলেন, জেলার ৩২৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে এবারের দুর্গোৎসব সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মিলনমেলায় পরিণত হবে।
পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সম্প্রীতির মিলনমেলা হবে। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ এ বিসর্জন অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিষদ নেতারা। বিভিন্ন গোয়েন্দা ও বিশেষায়িত সংস্থার সদস্যরাও এ আয়োজনে কাজ করবেন বলে তাঁদের দাবি।
কক্সবাজার সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি আইনজীবী বাপ্পি শর্মা বলেন, দুর্গোৎসব সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে মণ্ডপ কমিটিগুলো।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের অর্থ সম্পাদক স্বপন গুহ বলেন, দুর্গাপূজায় ছুটি বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। এবার পূজার তিন দিনের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে পেশাজীবীরা পাঁচ দিনের ছুটি পেয়েছেন। পাশাপাশি মণ্ডপপ্রতি সরকারি অনুদানও বাড়ানো হয়েছে। এ জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি পূজা শেষ হওয়া পর্যন্ত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত দোলন ধর বলেন, দুর্গোৎসব সফল করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজামণ্ডপ কমিটির নেতাদের সঙ্গে একাধিক সভা হয়েছে। সবার সহযোগিতায় উৎসব আনন্দমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান বলেন, দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। থাকবে ট্রাফিক ও টুরিস্ট পুলিশও।
তিনি বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার পাশাপাশি কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
The post কক্সবাজারে ৩২৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নজর নিরাপত্তায় appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
