দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা গেছে দুই শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল প্রকাশিত পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহে দুজন এবং ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় একজন করে মারা গেছে। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। এ নিয়ে গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৬৮ জন মারা গেছে। এর মধ্যে অক্টোবরের এ পর্যন্ত মারা গেছে ১২৪ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩, জুলাইয়ে ৩৬, জুনে ১৩, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায় এ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৫১২ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে সারা দেশে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০২ জনে। এ সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ১১১ জন। আর ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ৪৫৫ জন।
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আছে ১১১ জন আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪৬ জন। এ দুই সিটি করপোরেশন ছাড়া ঢাকা বিভাগের অন্য জেলার হাসপাতালগুলোয় নতুন করে ২৫০ জন ভর্তি হয়েছে। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ২৩১ জন, চট্টগ্রামে ২৯৪, খুলনায় ২০৬, ময়মনসিংহে ৬০, রাজশাহীতে ১৬২, রংপুরে ৪৪ ও সিলেট বিভাগে আটজন ভর্তি হয়েছে।
এদিকে বুধবার সকাল আটটা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দুজনই ঢাকা বিভাগের। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২০৭। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ ও উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, সবশষ একদিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৯৯৫ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে ৯১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ৩৬ জনের শরীরে।
হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩০২ জন, চট্টগ্রামে ১৯৩, সিলেটে ১২৫, বরিশালে ৯৪, খুলনায় ৮১, ময়মনসিংহ ৬৩, রাজশাহীতে ২৩ ও রংপুরে আছে ৩০ জন।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬০৮ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯২৭ জন। এ পর্যন্ত হাম উপসর্গের রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬০ জনে। এর মধ্যে ২৩ হাজার ২৪৮ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।
এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে প্রাণহানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৯৬ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৯৪ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১০২, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৫, বরিশালে ৬৫, খুলনায় ৫১ ও রংপুর বিভাগে ১৭ জন।
নিশ্চিত হামে মৃত্যুতেও ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে এগিয়ে। এখানে মারা গেছে ৬৭ জন। এছাড়া বরিশালে ১৯ জন, চট্টগ্রামে ১০, সিলেটে ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজন।
