আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরবর্তী আসরের সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আসরের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে। আগামী ২০২১ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ও নেপালের যৌথ আয়োজনে বসবে এই মেগা টুর্নামেন্ট। ১৬টি দল মোট ৪১টি ম্যাচে অংশ নেবে, যা চট্টগ্রাম, সিলেট এবং কাঠমান্ডুর দুটিসহ মোট চারটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে আগামী ২১ জানুয়ারি মাঠে গড়াবে চারটি উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ।
উদ্বোধনী দিনে সকালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিক বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের। একই ভেন্যুতে বিকেলের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ নাইজেরিয়া। অন্যদিকে কাঠমান্ডুর আপার মুলপানি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে শ্রীলঙ্কা লড়বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এবং দিনের অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র। টানা তৃতীয় শিরোপা জয়ের মিশনে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত তাদের অভিযান শুরু করবে ২২ জানুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
আসরের গ্রুপ ‘এ’ তে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মালয়েশিয়ার পথ ধরে এবার ভারতের সঙ্গে রয়েছে আয়ারল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং সহ-আয়োজক নেপাল। ২২ জানুয়ারি কাঠমান্ডুর টিইউ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে মাঠে নামবে আয়ারল্যান্ড। গ্রুপ ‘বি’ তে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও সামোয়া। এছাড়া গ্রুপ ‘সি’ তে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আছে বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। আর গ্রুপ ‘ডি’ গঠিত হয়েছে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও স্কটল্যান্ডকে নিয়ে।
গ্রুপ পর্বের রোমাঞ্চকর লড়াই চলবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর প্রতিটি গ্রুপের সেরা তিনটি দল সুপার সিক্স পর্বে উন্নীত হবে। সুপার সিক্সের দলগুলোকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে এবং উভয় গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুটি সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যার জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ডে হিসেবে রাখা হয়েছে। আর আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় দুপুর ১:৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে গ্র্যান্ড ফিনালে, এবং ফাইনালের জন্য ৭ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ডে নির্ধারিত রয়েছে।
তরুণ প্রতিভাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে আইসিসি। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত বলেন, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ হলো আমাদের খেলার ভবিষ্যৎ প্রদর্শনের মঞ্চ এবং তরুণ খেলোয়াড়দের দেশের হয়ে এলিট ক্যারিয়ার গড়ার সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম। ১৬টি দলের এই ভবিষ্যৎ তারকারা বিশ্ববাসীর নজর কাড়বে এবং নারী ক্রিকেটের প্রসারে নতুন প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় রোল মডেল হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ ও নেপালকে আয়োজক হিসেবে বেছে নেওয়া ক্রিকেট生態 ব্যবস্থার ভবিষ্যতে আইসিসির আস্থাকেই প্রতিফলিত করে। এই দুই দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স কুড়ির নিচে থাকায় তরুণদের এই বিশাল আসরের জন্য তারা আদর্শ আয়োজক।
