মাগুরায় পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। বুধবার রাতে নিহতের স্ত্রী শারমিন নাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় মামলাটি করেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টারের ভেতরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্বামীকে হারিয়ে দুই শিশুসন্তান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী শারমিন নাহার রুমা। স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বারবার মূর্ছা যেতে যেতে বিলাপ করে বলেন, “যারা আমার স্বামীকে মেরেছে, তাদের খবর দাও। আমাদেরকেও মেরে ফেলুক। স্বামীকে ছাড়া দুই মেয়েকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব, কীভাবে চলব? আমার মেয়েদের এখন কে দেখবে?”
নিহত শাকের হোসেন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আয়েই চলত স্ত্রী ও দুই মেয়ের সংসার। বড় মেয়ে সামিয়ার বয়স ১১ বছর এবং ছোট মেয়ে মুনতাহার বয়স মাত্র ৬ বছর। বাবাকে হারিয়ে দুই শিশুর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টারের সামনে আসেন। ওই সময় কাউন্টারে অবস্থান করা এক নারী যাত্রী পাশের বাথরুমে গেলে মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা ব্যক্তি কাউন্টারের ভেতরে প্রবেশ করেন। অভিযোগ উঠেছে, ওই ব্যক্তি শাকের হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। পরে বাথরুমে যাওয়া নারী যাত্রী কাউন্টারে ফিরে শাকেরকে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের কাউন্টারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকেরকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসান জানান, বুধবার ভোরে শাকেরকে হাসপাতালে আনা হলে সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা প্রথমে জানান, তিনি স্ট্রোক করেছেন। তবে, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। ইসিজি পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তার শরীরে দৃশ্যমান রক্তপাত পাওয়া যায়নি।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, প্রথমে স্ট্রোক কিংবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শাকেরের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। পরে তার মাথায় ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। স্বজনদের দাবি, দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
