ছবির ক্যাপশন: ...............
মোঃ চপল সরদার ঃ
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় চাল কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। অসাধু ব্যবসায়ীরা চালের বস্তার ভেতরে ভালো মানের চালের আড়ালে নিম্নমানের চাল, এমনকি পাথর মিশিয়ে বিক্রি করছে। এতে ক্রেতারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
যেভাবে ঘটছে এই প্রতারণা
বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মোটা অঙ্কের মুনাফার লোভে এই অনৈতিক কাজটি করছেন। তারা চালের বস্তার উপরের অংশে ভালো মানের চাল সাজিয়ে রাখে, কিন্তু ভেতরে নিম্নমানের ভেজাল চাল, যেমন এলসি চাল এবং ছোট ছোট পাথরকুচি মিশিয়ে দেয়। ফলে ক্রেতারা ভালো চাল মনে করে বস্তা কিনলেও বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দেখেন বেশিরভাগ চালই খাওয়ার অনুপযোগী।
এছাড়াও, ৫০ কেজির চালের বস্তায় প্রায় ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত কম চাল দেওয়া হচ্ছে। এই প্রতারণার কথা স্বীকার করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চালের মহাজন জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তাদের কাছ থেকে চাল কিনে নিয়ে যাওয়ার পর বস্তা খুলে তাতে ভেজাল মেশায়। এরপর তারা সেলাই মেশিন ব্যবহার করে এমনভাবে বস্তা সেলাই করে দেয়, যাতে বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় থাকে না। এই অসাধু ব্যবসায়ীরা ১০০ থেকে ২০০ টাকা কমে চালের বস্তা বিক্রি করে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করে।
ক্রেতাদের ভোগান্তি এবং দাবি
একজন ভুক্তভোগী ক্রেতা জানান, 'আমি একজন দিনমজুর। কষ্ট করে টাকা জমিয়ে চাল কিনেছিলাম। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে দেখি বস্তার চালের সঙ্গে পাথর মেশানো। ওজনেও অনেক কম। এতে আমাদের মতো গরিব মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে।'
ভুক্তভোগী ক্রেতারা এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা চান, বাজার তদারকি বাড়ানো হোক এবং দোষী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সাধারণ জনগণের দাবি, এই ধরনের প্রতারণা বন্ধ না হলে খাদ্য কেনাকাটায় তাদের আস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যাবে।
ব্র্যান্ডের নামে প্রতারণা
বাজারের পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলোতে প্লাস্টিকের বস্তায় বাজারজাত করা চাল বিক্রি হচ্ছে। এসব বস্তার ওপরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোড়কে কাটারি, রঞ্জিত, মিনিকেট, নাজিরশাইল, বাসমতি ও আটাশ চালের নাম লেখা থাকে। কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা জানান, এসব চাল প্রকৃতপক্ষে ব্র্যান্ডের চাল নয়। অনেক সময় ক্রেতারা অভিযোগ করেন যে, ভাত দেখতে চিকন হলেও রান্নার পর তা মোটা হয় এবং এর স্বাদও ভালো হয় না। এসব চাল আসলে কাটিং ও বাছাই মেশিনে চিকন এবং চকচকে করা হয়।
