সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যে এবার বন্ধ পাওয়া গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক ও বেসরকারি বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ওয়েবসাইট। আজ রোববার দুপুরে ব্যাংক দুটির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে গিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের নোটিশ দেখা গেছে। তবে ওয়েবসাইট বন্ধের কারণ হিসেবে সাইবার হামলার কথা উল্লেখ করেনি ব্যাংক দুটি।
জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ‘সিস্টেম মেইনটেন্যান্স’ শিরোনামে দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, তাদের অ্যাপ্লিকেশনে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। শিগগিরই এটি চালু হবে। এ জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে ব্যাংকটি।
অন্যদিকে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ‘ইমপর্ট্যান্ট নোটিশ: সার্ভিস মেইনটেন্যান্স’ শিরোনামে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ওয়েবসাইটের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সেবা পুনরায় চালু করতে কাজ চলছে। এ জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে অপেক্ষা ও সহযোগিতা কামনা করেছে ব্যাংকটি। প্রয়োজনে ১৬৭৯৬ নম্বরে ফোন করে অথবা নির্ধারিত ই-মেইলে যোগাযোগের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
ওয়েবসাইট দুটি বন্ধ থাকায় গ্রাহকেরা অনলাইনে ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন তথ্য ও ওয়েবসাইটভিত্তিক সেবা নিতে পারছেন না। একাধিকবার চেষ্টা করেও ওয়েবসাইট দুটিতে প্রবেশ করা যায়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জনতা ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কায় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিন দিন পর আজ সকাল আটটা থেকে সেটি আবার চালু করা হয়েছে। একই সময়ে অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক ও এসবিএসি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে সেগুলো বর্তমানে চালু রয়েছে।
অবশ্য ওয়েবসাইট বন্ধ থাকলেও গত তিন দিনে ব্যাংকগুলোর ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন স্বাভাবিক ছিল। ফলে গ্রাহকদের লেনদেনে কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এর আগে জানিয়েছিলেন, ওয়েবসাইটে কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছিল। বিশ্বব্যাপী সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঝুঁকি কেটে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট আবার চালু করা হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় দুটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারি সেবা, ব্যাংকিং, ই-কমার্স ও সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় এ ধরনের নিরাপত্তাত্রুটি নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এসআই/বিআরইউ
