শহীদ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়া এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আগামী ১৮ ডিসেম্বর একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত আসবে বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে রংপুর নগরীর কারমাইকেল কলেজসংলগ্ন লালবাগ মোড়ে শহীদ ওসমান বিন হাদির বিচারসহ তিন দফা দাবিতে আয়োজিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, আমাদের পরিষ্কার ডেডলাইন হলো ১৮ ডিসেম্বর। ওই দিন শাহবাগে আমরা সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমবেত হব এবং জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সোচ্চার থাকবে, নাকি ওসমান হাদি হত্যার বিচার বাধাগ্রস্ত করার চক্রান্তের পক্ষে অবস্থান নেবে। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, আমরা চাই আপনারা পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করুন। তবে ১৮ ডিসেম্বরের পর আমরা আর হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে নামতে চাই না। কোন প্রক্রিয়ায় ঘাতকদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন, সেটি সম্পূর্ণ আপনাদের দায়িত্ব। এ সময় তিনি কূটনীতির আড়ালে যারা এই হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন, তাদেরকেও খুনের নেপথ্য সহযোগী হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে ইনকিলাব মঞ্চের এই শীর্ষ নেতা বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও কার্যত এখনো তা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ এবং রাষ্ট্রব্যবস্থা দিল্লির প্রেসক্রিপশনে পরিচালিত হচ্ছে। সীমান্তে প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো জোরালো প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না। ১৭ বছর পর ক্ষমতায় এসেও সরকারের হুঁশ ফেরেনি উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, এবার ক্ষমতাচ্যুত হলে ৭০ বছরেও আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না। খুন, গুম ও চাঁদাবাজি দূর করার জন্যই জনগণ রক্ত দিয়ে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে, কাউকে মসনদে বসানোর জন্য নয়। সংসদের পবিত্রতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করার যেকোনো অপচেষ্টা হলে ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আবারও সংসদ ভবন ঘেরাও করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূরের বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, শহীদ হাদি কোনো সাধারণ ব্যক্তি নন; তিনি এ দেশের আজাদি, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর। তাকে নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের কটূক্তি করা হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর ও সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয়সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে নির্বাচিত সরকার এলেও জুলাই গণহত্যা, শাপলা চত্বর ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে তাদের কোনো জোরালো অবস্থান দেখা যাচ্ছে না। উল্টো জুলাইযোদ্ধাদের নামে সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রদ্রোহের মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। আবরার ফাহাদ থেকে শুরু করে শহীদ ওসমান হাদি পর্যন্ত—ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া মেধাবী ও দেশপ্রেমিকদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই খুন ও পরাধীনতার ধারাবাহিকতা দেশে আর চলতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচিটি নগরীর কলেজ রোড চারতলা মোড় থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে শুরু হয়। মিছিলটি লালবাগ হয়ে ঐতিহাসিক কারমাইকেল কলেজ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় লালবাগ মোড়ে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবর থেকে এই ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা আগামী ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
