কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া সাতটি শর্তের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ‘অপর্যাপ্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি। রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। এতে বলা হয়, দেশটির সাতটি শর্ত পূরণ করা হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে সেখানে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব। পরে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওই প্রস্তাবের জবাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব রেজায়ি বলেন, ইরানের কাছে যেসব বিষয় এখনো অস্পষ্ট, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে পরিষ্কার করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত দিয়েছি এবং স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না এবং কোনো আলোচনা হবে না।’
রেজায়ি আরও বলেন, ইরান এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় নেই। তার ভাষ্য, মার্কিন জবাবে ইরানের কিছু শর্ত মেনে নেওয়া হয়েছে, তবে অন্য বিষয়গুলো এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে। এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি হোয়াইট হাউস।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তেহরান জানিয়েছিল, উপসাগরীয় অঞ্চলে ভেঙে পড়া যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবিত করার সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পেয়েছে। এর কয়েক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরানের ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রচেষ্টায় কাতারসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতা করছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে প্রণালিটি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
