সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চার বিঘা আয়তনের একটি সরকারি জমি ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে দখলের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। মাঠটি দখলমুক্ত করে খেলাধুলার জন্য সংরক্ষণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সলপ ইউনিয়নের নওকৈড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত হেকমত আলী সরকার সলপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে হেকমত আলী সরকার ও তার পরিবারের সদস্যরা ট্রাক্টর দিয়ে মাঠটি চাষ করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার মাঠটি দখলমুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। তাদের দাবি, মাঠটি শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।
সলপ ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল হোসেন বলেন, চার বিঘা আয়তনের জমিটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। ২০১৯ সালে ভূমিহীনদের জন্য গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের উদ্দেশ্যে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শওকত ওসমান সেখানে মাটি ভরাট করেন। পরে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা জায়গাটিকে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল।
তবে জমিটি নিজেদের বলে দাবি করেছেন হেকমত আলী সরকার। তিনি বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের লোকজন জিম্মি করে আমাদের জায়গা দখল করে সেখানে মাটি ভরাট করেছিল। এখন আমাদের সময় এসেছে, তাই আমরা আমাদের জায়গা দখলে নিয়ে চাষাবাদ করছি।’
জমিটির হালনাগাদ খাজনা-খারিজ আছে কি না, জানতে চাইলে হেকমত আলী সরকার বলেন, জমিটি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে জমিটিকে সরকারি সম্পত্তি বলে উল্লেখ করেছেন সলপ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান শওকত ওসমান আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সেখানে মাটি ভরাট করেছিলেন। পরে জায়গাটি অব্যবহৃত থাকায় স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করছিল। সরকারি জমি ব্যক্তিগত চাষাবাদে ব্যবহারের অভিযোগটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হবে।
তবে উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোহাম্মদ শাহজাহান আলী বলেন, জায়গাটি খেলার মাঠ নয়। সেখানে সরকারি কিছু জমি রয়েছে, যা এলাকার লোকজন বিভিন্ন সময়ে ইজারা নিয়ে চাষাবাদ করে আসছিলেন। তাদের কাছে কাগজপত্রও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শাহজাহান আলী আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সেখানে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে মাটি ভরাটের সময় স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছিল, যা বর্তমানে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, নওকৈড় গ্রামটি সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মওলানা রফিকুল ইসলাম খানের নিজ গ্রাম। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যক্তিগত সহকারীর মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
