নারায়ণগঞ্জের বন্দরের আমিন আবাসিক এলাকার স্কুলঘাটসংলগ্ন ময়না ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনায় নবজাতকের বাবা মো. হোসেন রয়েল বাদী হয়ে ক্লিনিক মালিক ও চিকিৎসক ডা. ময়না বেগমের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এদিকে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২৩ অক্টোবর সকালে প্রসববেদনা শুরু হলে মো. হোসেন রয়েলের স্ত্রীকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই দিন দুপুরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি ছেলেসন্তান প্রসব করেন তিনি। জন্মের পর থেকেই নবজাতকটি বিরতিহীনভাবে কাঁদতে থাকলে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসক ডা. ময়না বেগমকে অবহিত করা হয়। তবে চিকিৎসক কোনো সমস্যা নেই বলে পরিবারকে আশ্বস্ত করেন।
পরবর্তীতে শনিবার সকালে শিশুটির কান্নার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে চিকিৎসকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু চিকিৎসক ক্লিনিকে এসে শিশুটিকে দেখতে অস্বীকৃতি জানান এবং দায়িত্বে থাকা নার্সদের ডেকেও কোনো ধরনের সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন শোকার্ত পিতা।
একপর্যায়ে নবজাতকের অবস্থার অবনতি ঘটলে ডা. ময়না বেগমের পরামর্শে তাকে ঝাউতলা এলাকার এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসককে না পেয়ে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে ময়না বেগমের ব্যক্তিগত চেম্বারে এবং পরবর্তীতে ফরাজীকান্দা এলাকার আরেক চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু কোথাও কোনো সুচিকিৎসা মেলেনি। পরিশেষে তাঁদের পরামর্শেই নবজাতককে মাতুয়াইল শিশু ও মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং শিশুটির প্রায় এক ঘণ্টা আগেই মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ময়না ক্লিনিকের কর্মকর্তা কাউছার দাবি করেন, নবজাতকটি মারা যাওয়ার আগেও সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। তিনি বলেন, “আমরা তাকে যথোপযুক্ত চিকিৎসাসেবা দিয়েছি এবং পরিবারকে মায়ের বুকের দুধ ছাড়া অন্য কোনো খাবার না খাওয়ানোর কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। মূলত কী কারণে শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে বর্তমানে তদন্ত চলছে।”
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আলাউল কবির দিপু জানান, সিভিল সার্জনের নির্দেশে ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, এই অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িত চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
