আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলায় পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আন্তরিক সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
অগ্নিনিরাপত্তা জোরদার ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বাড়াতে আজ রবিবার একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর চকবাজার মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতিতে ডিএসসিসির উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানো, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়িক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, “পুরান ঢাকা একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অঞ্চল। অতীতে কেমিক্যালের কারণে এখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তাই প্রতিটি মার্কেট ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার সময় ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত প্রবেশের পথ উন্মুক্ত রাখা জরুরি।”
প্রশাসক আরও বলেন, পুরান ঢাকার অনেক সড়ক দোকানপাট ও অবৈধ দখলের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার সময় উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অবকাঠামোগত ও নাগরিক সমস্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন এবং সড়কের সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সড়কবাতি সচল রাখা ও পরিচ্ছন্নতা জোরদার করে পুরান ঢাকার পরিবেশ উন্নত করতে সিটি কর্পোরেশন বদ্ধপরিকর।”
তিনি জানান, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।
মৌলভীবাজার, চকবাজার, সোয়ারীঘাট ও সদরঘাটের ব্যবসায়িক ঐতিহ্য পুনর্বহালের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, “শুধু সমস্যার কথা না বলে সমাধানের পরামর্শও দিন। আপনাদের সুচিন্তিত মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করব।”
নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় নগরের সামাজিক ও নাগরিক সমস্যা সমাধানে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ‘পঞ্চায়েত ব্যবস্থা’ ফিরিয়ে আনার ওপরও জোর দেন প্রশাসক।
সভায় ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা মেনে চলা, সরঞ্জাম সচল রাখা এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসলাইন নিয়মিত পরীক্ষা করার অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে বলা হয়।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিআলো/শিলি