চট্টগ্রামের কোতোয়ালিতে দাম্পত্যকলহের জেরে স্বামী হেলাল উদ্দিনকে হত্যার দায়ে হোসনে আরা বেগম নামের এক নারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আজ সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নিষ্কৃতি হাগিদকের আদালত এ রায় দেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত হোসনে আরা বেগম নগরের কোতোয়ালি থানার লাভলেইনের বাসিন্দা। নিহত হেলাল উদ্দিনের বাসা ছিল নগরের এনায়েতবাজারের বাটালি রোডে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ ওমর ফুয়াদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মোহাম্মদ ওমর ফুয়াদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, হত্যা মামলায় মোট আটজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় হোসনে আরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ৯ মে সকালে কোতোয়ালির লাভলেইনের একটি বাসা থেকে হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, আগের রাতে বাসায় হেলাল ও তাঁর স্ত্রী হোসনে আরার মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল।
সকালে প্রতিবেশীরা হোসনে আরাকে দেখতে না পেয়ে ও বাসার ভেতরে হেলালকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিন খান মামলা করেন। পরে হোসনে আরাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের অভিযোগপত্রে বলা হয়, হেলাল উদ্দিনের প্রথম সংসারে তিন ছেলে রয়েছে। হোসনে আরাও আগে বিবাহিত ছিলেন। পরে তাঁরা বিয়ে করেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর থেকে হোসনে আরা তাঁর স্বামীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এ কারণে হেলাল প্রায় দেড় মাস নিরুদ্দেশ ছিলেন। পরে হেলালকে খুঁজে পেয়ে হোসনে আরা বাসায় নিয়ে আসেন। ওই রাতেই তাঁদের মধ্যে আবার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে হোসনে আরা ভারী বস্তু দিয়ে হেলালের মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঘটনার পর বাসায় তালা দিয়ে হোসনে আরা আত্মগোপনে চলে যান।
