সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদর (৩৫) নামে এক মাদরাসাশিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালায় ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এ ঘটনায় ১২ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত করেছিল সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
নিহত মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদর কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর এলাকার মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে। তিনি রাজধানীর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদরাসার সহকারী অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে নিহত নাসরুল্লাহ বদরের ভগ্নিপতি মাওলানা মো. নাসিরুদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মাওলানা নাসিরুদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, নাসরুল্লাহ বদর গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) ওমরাহ পালনের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। তাঁকে নিয়ে মোট ৪৫ জনের একটি কাফেলা শনিবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে নয়, বরং ঢাকা থেকে রিয়াদের উদ্দেশে যাত্রা করে। রিয়াদে তাঁদের দুই ঘণ্টার ট্রানজিট ছিল। ট্রানজিট শেষে মক্কার উদ্দেশে বিমানটি রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সেই সময় হামলায় নিহত হন নাসরুল্লাহ বদর। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মোট ১২ জন প্রাণ হারান। ওই কাফেলার ৪৫ জনের মধ্যে ৩২ জন সুস্থ আছেন। বাকি ১৩ জন গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তিনি আরও জানান, নাসরুল্লাহ বদর স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলেরা হলো মো. জামিল (৭) ও জাওয়াদ (২)। একমাত্র মেয়ে নাবিলার বয়স পাঁচ বছর। সাত ভাইবোনের মধ্যে নাসরুল্লাহ ছিলেন তৃতীয়।
মাওলানা নাসিরুদ্দিন বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুর পর পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ। স্ত্রী ও ছোট তিন সন্তানকে নিয়ে তাঁর সংসারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ঘটনার পর থেকে তাঁরা নাসরুল্লাহ বদরের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। নাসরুল্লাহর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে মৃত্যুর খবরটি তিনি পেয়েছেন। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
