গরম ভাতের সঙ্গে তো বটেই উৎসবের দিনে পোলাও, বিরিয়ানি থেকে শুরু করে লুচি,পায়েস কিংবা আরও অন্যান্য খাবারের স্বাদ বাড়াতে বাঙালি বাড়িতে প্রায় সারা বছরই ঘিয়ের ব্যবহার করা হয়। তবে বছরের অন্যান্য দিনগুলির তুলনায় উৎসবের মরশুমে ঘিয়ের ব্যবহার অনেকটাই বেড়ে যায়। চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় এই সময় বাজারে ব্যাপক হারে ভেজাল ঘি বিক্রির আশঙ্কা তৈরি হয়।
বাইরে থেকে হুবহু আসল ঘিয়ের মতো দেখতে হলেও তার মধ্যে মেশানো থাকতে পারে সিদ্ধ আলুর স্টার্চ, ভেজিটেবল অয়েল, কিংবা পচা পশুর চর্বি। এই ধরনের ভেজাল ঘি খেলে হজমের সমস্যা থেকে শুরু করে লিভার কিংবা হার্ট-সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বাজার থেকে ঘি কেনার সময় গ্রাহকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। বাজার থেকে আনা ঘি আসল না নকল, তা বোঝার জন্য বাড়িতেই বেশ কয়েকটি সহজ পরীক্ষা করা যেতে পারে।
ঘি গরম করে দেখুন
ছোট পাত্রে অল্প পরিমাণে ঘি নিয়ে কম আঁচে গরম করুন। ঘি যদি খাঁটি হয় তাহলে খুব সহজেই গলে যাবে। এই সময় ঘি সোনালী বা গাঢ় হলুদ রঙের হয়ে যায়। শুধু তা-ই নয়, আসল ঘি গরম করার পর তা থেকে সুন্দর গন্ধ ছড়ায়। তবে ঘি যদি নকল হয় তাহলে গলতে সময় লাগতে পারে এবং এর রঙ হবে সাদা বা ঘোলাটে।
হাতের তালুতে নিয়ে পরীক্ষা
খাঁটি ঘি হাতের তালুতে নেওয়া মাত্রই গলে যায় এবং সুগন্ধ রেখে যায়। কিন্তু হাতের তালুতে ঘি রাখার পরেও যদি তা না গলে কিংবা গলতে সময় লাগে তাহলে বুঝতে হবে ওই ঘিয়ের মধ্যে ভেজাল আছে।
ফ্রিজে রেখে পরীক্ষা করুন
একটি কাচের পাত্রে সামান্য ঘি নিয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য ফ্রিজে রেখে দিন। খাঁটি ঘি হলে তা জমে শক্ত হয়ে যাবে। ঘিয়ের মধ্যে ভেজাল থাকলে বা ডালডা ঘি হলে সেই এর মধ্যে বুদবুদ দেখা যাবে এবং দানাদার ভাব থাকবে।
দাম দেখে কিনুন
উৎসবের সময় ব্যাপক চাহিদা থাকলেও অনেক কম দামে ঘি বিক্রি হয়। তাই এই সময় বিশ্বস্ত দোকান থেকেই ঘি কিনুন। দোকান থেকে ঘি কেনার সময় উৎপাদনের তারিখ থেকে শুরু সিলসহ সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য যাচাই করে নিন।
হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড পরীক্ষা
ঘিয়ের মধ্যে উদ্ভিজ্জ তেল আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য একটা পরিষ্কার কাচের টেস্ট টিউবের মধ্যে কিছুটা গলা ঘি নিন এবং তার মধ্যেই সামান্য পরিমাণে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড এবং এক চিমটি লবণ যোগ করুন। ঘিয়ের মধ্যে ভেজাল থাকলে মুহূর্তের মধ্যে রঙ বদলে লাল হয়ে যাবে।
আয়োডিন পরীক্ষা
বাজারজাত ঘিয়ের ওজন বাড়ানোর জন্য অনেক সময় সিদ্ধ আলুর স্টার্চ মেশানো হয়। অল্প পরিমাণে কি গরম করে এতে কয়েক ফোঁটা আয়োডিন দ্রবণ যোগ করলে যদি ঘি নীল কিংবা বেগুনি হয়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে ওই ঘিয়ের মধ্যে কার্বোহাইড্রেট অর্থাৎ সিদ্ধ আলুর স্টার্চ মেশানো আছে। বাজারজাত ঘিয়ের ওজন বাড়ানোর জন্য অনেক সময় সিদ্ধ আলুর স্টার্চ মেশানো হয়।
https://youtu.be/TTaC77AoBTQ?si=YYCtwTPX5_W6Hnnl
সবশেষে বলে রাখি, বাড়িতে করা সাধারণ পরীক্ষা আসল নকল ঘি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে। তাই ঘিয়ের মধ্যে চর্বি বা অন্য কোন তেল মেশানো থাকলে তা খালি চোখে দেখে কিংবা গরম করে সবসময় বোঝা যায় না। তাই সার্বিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে, ঘি নিয়ে সন্দেহ থাকলে সেই ঘি খাবারে ব্যবহার না করাই ভাল।
