যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি "জ্বালানি-বিষয়ক যুদ্ধবিরতি"র বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তাঁর এই ঘোষণার পরপরই কিয়েভ জানিয়েছে যে, মস্কো তাদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
এপির খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সংক্ষিপ্ত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কেবল বলা হয়েছিল যে যুদ্ধবিরতি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "এটি ভঙ্গ করবেন না!"
মস্কো তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে তার দেশ "সবার জন্য সুসংবাদ" হিসেবে স্বাগত জানালেও, রাশিয়া তখনও কিয়েভ ও খারকিভ শহরের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছিল।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন যে, তিনি এখনও এই চুক্তির বিস্তারিত বিবরণের অপেক্ষায় আছেন; কিয়েভ এমন যেকোনো চুক্তির বিষয়ে সতর্ক রয়েছে যা ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর ওপর হামলা একতরফাভাবে বন্ধ করতে বাধ্য করার মাধ্যমে রাশিয়াকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। ওয়ারশতে আয়োজিত এক সম্মেলনে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষিত জ্বালানি-সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতি রাশিয়া লঙ্ঘন করেছে। আমরা আমেরিকান ও রুশ পক্ষের মধ্যকার শর্তাবলির বিস্তারিত বিবরণের অপেক্ষায় আছি এবং আমেরিকানরা সুনির্দিষ্ট কোন পদক্ষেপটি নিতে প্রস্তুত, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছি।"
সন্ধ্যায় দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, "দুর্ভাগ্যবশত, সারাদিন ইউক্রেনের আকাশ রুশ 'শাহেদ' ড্রেনে ছেয়ে ছিল। গ্লাইড বোমা এবং আমাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপরও হামলা চালানো হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় খারকিভের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা হয়েছে।"
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি খুবই স্পর্শকাতর বক্তব্য দিয়েছেন বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনের জন্য একজন নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ অবসানে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেননি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের উচ্চমূল্যের জন্য তাকেই দায়ী করেন।
ট্রাম্প বলেন, "আমার পরামর্শ হলো, তাদের এমন একজন নতুন নেতা পাওয়া উচিত যিনি সমঝোতা বা চুক্তি করতে সক্ষম; কারণ তিনি (জেলেনস্কি) অনেক চুক্তিই করতে পারতেন, কিন্তু কোনো এক কারণে তিনি তা কখনোই করেননি।"
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির উচ্চমূল্য মোকাবিলার লক্ষ্যে শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ডিজেল কেনার চুক্তি করা ট্রাম্প বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই জেলেনস্কিকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেলের রেকর্ড দামের জন্য তিনি ইউক্রেনকেই দায়ী করার চেষ্টা করেছেন।
গত ১০ অক্টোবর ট্রাম্প জানান, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। আগামী নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং এর পরপরই অতিরিক্ত ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে।
শনিবার ইউক্রেনীয় ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা ট্রাম্পের ডিজেল চুক্তির বিষয়ে হতাশা ও অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন যে, এটি রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থ জোগাতে সহায়তা করবে।
