শ্যামশ্রী সাহা
এই ছবি দেখতে যাওয়ার আগে ঠিক করেছিলাম, চুলচেরা বিশ্লেযক নয়, দর্শক হিসাবে দেখব। আটটা সিজন আর গোটা তিনেক ছবি পেরিয়ে এ বছরের পুজোয় চার নম্বর ছবির মুক্তি। এতদিনে একেনবাবুকে নিয়ে প্রত্যাশার পারদ যতটা চরমে, তাতে কি এবার জোয়ার আসবে? ছবির ঘোষণার সময়েও একেনবাবুর এই নতুন অভিযান নিয়ে দর্শকের কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। তাই পুজোর আনন্দ গায়ে মেখে এবারও যে দর্শক হলমুখী হবেন, দলে দলে যোগ দেবেন একেনের অভিযানে, তার আঁচ আগে থেকেই পাওয়া গিয়েছিল।
ছবির শুরু ‘পুরুলিয়ায় পাকড়াও’-এর ক্লাইম্যাক্স থেকে। একেন্দ্র সেনের অপহরণে। কারা তাঁকে কিডন্যাপ করেছিল? কেনই বা করল? সেই রহস্যেরই জট খুলবে ‘দ্য একেন-কেরালায় কুরুক্ষেত্র’ তে।
পুরুলিয়া থেকে পাকড়াও করে সোজা কেরালায়। আমন্ত্রণ বা নিমন্ত্রণ নয়, একেবারে অপহরণ। তাও কিনা দ্য একেন্দ্র সেন কে। এরপরে যে কুরুক্ষেত্র বাধবে, সেটা বলাই বাহুল্য।

এবারের গল্পে ঘটনার সূত্রপাত বিখ্যাত নিউক্লিয়ার সায়েন্টিস্ট প্রোফেসর মিহির রায়ের(কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়) অপহরণকে কেন্দ্র করে। মানে ছবিতে জোড়া অপহরণ! কিন্তু এর সঙ্গে একেনবাবুর কিডন্যাপের যোগ কোথায়? সেটাই তো রহস্য! সেই রহস্যের জট খুলতেই তাঁর কেরালায় হাজিরা। আসলে মিহির রায়ের কাছে রয়েছে একটা মেটাল বক্স আর পাসওয়ার্ড, তাই নিয়েই যত গোলমাল। একেনবাবুকে এই গুরুদায়িত্ব নিতে অনুরোধ করেন অফিসার সুমন্ত ঘোষ (সুব্রত দত্ত)। কিন্তু কে রয়েছে এই অপহরণের পিছনে? আবু ঘানির কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী ইরফান ফাজিল (ঋত্বিক চক্রবর্তী)। এদিকে একেনবাবুর সন্ধানে কেরালায় হাজির বাপি ( সুহোত্র মুখোপাধ্যায়)ও প্রমথ (সোমক ঘোষ)। ঘটনাক্রমে, এই রহস্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন মিহির রায়ের ভাই দেবেশ (অম্বরীশ ভট্টাচার্য), তাঁর পেইংগেস্ট দীপা (রাইমা সেন), ও ইব্রাহিম (অর্ণ মুখোপাধ্যায়)। একেন কি পারবেন দেশকে রক্ষা করতে, মিহিরকে উদ্ধার করতে? একের পর এক চমকে দেওয়া রূদ্ধশ্বাস ঘটনাক্রম উত্তর দেবে সেই প্রশ্নের। আর তা জানতে দেখতেই হবে ‘দ্য একেন- কেরালায় কুরুক্ষেত্র’।

ভিন্ন পরিবেশে, একই চরিত্রে বারবার অভিনয়। তবু প্রতিবারই একেনবাবু নতুনরূপে দর্শকের সামনে উপস্থিত হয় অনির্বান চক্রবর্তীর মুন্সীয়ানায়। আর এখানেই অনির্বাণ 'দ্য বস'। ভুল প্রবাদ আর হ্যাংলামির পাশাপাশি এই ছবির উপরি পাওনা, একেনবাবুর মালয়ালি ডিকশন। কোথাও তিনি চূড়ান্ত ব্যর্থ, আবার কোথাও চরম সাবলীল। এখন এটুকুই বলতে পারি। তবে এবার একেন বাংলা, সংস্কৃত ও মালয়ালি মিলিয়ে দর্শকদের এক নতুন ডিকশনারি উপহার দেবেন, যা দুর্বোধ্য, দুষ্প্রাপ্য ও মজার রসদ হয়ে মনে থাকবে বহুদিন। তবে এই কৃতিত্ব চিত্রনাট্যকার পদ্মনাভ দাশগুপ্ত ও পরিচালক জয়দীপ মুখোপাধ্যাযেরও। এবার আসি ইরফান ফাজিলের কথায়। সুরমা পরা চোখে ক্রূর দৃষ্টি, সঙ্গে বেহালায় সুর তোলা ছাড়াও ঋত্বিকের অসাধারণ নাচের দর্শক ফ্যান হয়ে যাবেন। এই ত্রিবেণী সঙ্গমে তাঁর অভিনয় এই ছবির টার্নিং পয়েন্ট।
সেন সুন্দরী রাইমাকে ছবির অনুঘটক বলা যায়। একেনবাবু দীপার প্রেমে পড়বেন, সাহায্য পাবেন, নাকি রহস্যের জালে জড়াবেন, সেটা জানতে অবশ্য হলে যেতে হবে। ফ্রেমবন্দি কোচি ও মুন্নারের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যায়নও এই ছবির বাড়তি আকর্ষণ। তবে অম্বরীশের মতো অভিনেতাকে পর্দায় আরও একটু দেখার সাধ ছিল। অর্ণর ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। অবশ্যই সেটা চিত্রনাট্যকার ও পরিচালকের সিদ্ধান্ত ও ভাবনা।
এবার পুজোয় চারটি ছবির মুক্তি। জোর টক্কর। একেন যে এখানেও সফল হবেন, সেটা আশা করা যেতেই পারে।
ছবির প্রথমে যেমন টুইস্ট আছে, ছবির শেষেও রয়েছে খুকু ম্যাজিক। এবার কি খুকু সামনে আসবেন? বলব না। এটা রহস্যই থাক। শেষে একটা কথা চুপিচপি বলে রাখি, একেন- ইরফান জুটিকে আবার দেখা যেতে পারে। তবে অপেক্ষায় থাকতে হবে।
আর হ্যাঁ, এতদিন আপনারা অভিনেতা-পরিচালক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়কে দেখেছেন। এবার তিনি র্যাপার হিসাবে নতুন অবতারে।
