ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ১৫ লাখ টাকার ‘অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী স্বর্ণপদক ট্রাস্ট ফান্ড’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় প্রতিবছর বিভাগের বিএসএস (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সিজিপিএ বা নম্বর অর্জনকারী একজন শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক দেওয়া হবে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৫ লাখ টাকার একটি চেক গ্রহণ করেন। নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বাহরাইনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরীর উদ্যোগে এ ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অফিসসংলগ্ন সভাকক্ষে আয়োজিত চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে চেক হস্তান্তর করেন মুহিত আনোয়ার চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও সাবেক উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয় ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের উন্নয়নে তার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে তার এ উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার পরিচয় বহন করে।’
উপাচার্য আরও বলেন, ‘এ ধরনের ট্রাস্ট ফান্ড মেধাবী শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।’
অনুষ্ঠানে ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের আরও ভালো ফল অর্জনে উৎসাহিত করাই এ ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য। নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধ্যয়ন ও গবেষণায় উৎকর্ষ অর্জনের প্রতিযোগিতা গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
নিজের দীর্ঘদিনের বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় তার অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে। শিক্ষক হিসেবে এখনো তিনি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান উপভোগ করেন। ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকতে চান।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রাফিউল ইসলাম, অধ্যাপক হাসান আল শাফী, দাতা পরিবারের সদস্য লাকী নাসরিন, সিনিয়র আইনজীবী মো. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মুহিত আনোয়ার চৌধুরী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।