Published on
:
2 min read
চারদিকে আলোর রোশনাই। মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড়। জোরে গান বাজছে। তার মাঝে আচমকা শ্বাসকষ্ট। বুকে অসহ্য চাপ লাগছে। দর দর করে ঘাম হচ্ছে। তড়িঘড়ি হাসপাতালে না নিয়ে যেতে পারলে যা কিছু ঘটে যেতে পারে যে কোনও মুহূর্তে। এমন পরিস্থিতিতে যে কেউ পড়তে পারে। বিপদ বলে কয়ে আসে না। কিন্তু সঙ্কেত চেনা থাকলে বিপদ এড়ানো সম্ভব।
আজকাল হৃদরোগ শুধু বার্ধক্য হানা দেয় না। কম বয়সেও আক্রান্ত হতে পারে হৃদরোগ। তাই সতর্ক থাকা দরকার। তা ছাড়া দমবন্ধ পরিবেশে কষ্ট বাড়ে সিওপিডি-র রোগীদেরও। পিয়ারলেস হাসপাতালের ইমার্জেন্সি অ্যান্ড ট্রমাটোলজি সার্ভিসেস-এর প্রধান ডাঃ ইন্দ্রনীল দাশগুপ্ত বলেন, ‘যে কোনও ইমার্জেন্সি-র ক্ষেত্রে প্রথম এক ঘণ্টা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এই ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এ যদি রোগী চিকিৎসা পায়, তা হলে তাঁর প্রাণ বেঁচে যেতে পারে।’ তাই কোন কোন লক্ষণ দেখে সতর্ক থাকবেন, রইল টিপস।
বুকে ব্যথা বা চাপ লাগা
পুজোর সময়ে চলবে ভূরিভোজ। তাতে বদহজম হতেই পারে। বুকে ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি হলে অনেকেই তা গ্যাস-অম্বল ভেবে এড়িয়ে যান। যদি গ্যাস হয়, তা হলে অ্যান্টাসিড খেলে সমস্যা কমে যাবে। কিন্তু সমস্যাটা যদি হৃদরোগের হয়, তা হলে অস্বস্তি কমবে না। এমন কিছু হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হাতের পেশিতে টান
হৃদরোগের চেনা লক্ষণ হলো বাঁ হাতে অসহ্য ব্যথা। এই ব্যথা বুক বা চোয়াল থেকে শুরু করে হাতে নামতে পারে। তাই বুকে ব্যথার পাশাপাশি যদি চোয়ালে কিংবা বাঁ হাতে ব্যথা হয়, তা হলে এড়িয়ে যাবেন না।
ক্লান্তি ও অনিয়মিত হৃদস্পন্দন
একটানা প্যান্ডেল হপিং করলে শরীর ক্লান্ত হবেই। কিন্তু হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ঠাকুর দেখতে যাওয়ারও ইচ্ছে হবে না। কাজ করার কোনও এনার্জি পাবেন না। এ ছাড়া হৃদস্পন্দন যদি অনিয়মিত হয়ে যায়, তা হলেও সতর্ক হয়ে যান। এই ধরনের কোনও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
শ্বাসকষ্ট
হৃদরোগে আক্রান্ত হলে শ্বাসকষ্টের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বুক চাপ লাগার পাশাপাশি যদি শ্বাসকষ্টও হয়, তা হলে চুপচাপ বসে থাকবেন না। যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে যান। যদিও এখন বাতাসে দূষণের পরিমাণ মারাত্মক। এই ধুলো-ধোঁয়ায় হাঁপানি ও শ্বাসজনিত সমস্যা বাড়তে পারে। সিওপিডি-র রোগীদের আরও কষ্ট হতে পারে। সিওপিডি-র রোগী হলে সঙ্গে ইনহেলার রাখুন এবং অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
FAQ
১. হৃদরোগের জরুরি লক্ষণগুলি কী কী?
বুকে ব্যথা বা চাপ, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, অস্বাভাবিক ক্লান্তি এবং হাত বা চোয়ালে ব্যথা হৃদ্রোগের সতর্কসংকেত হতে পারে।
২. বুকে ব্যথা হলে কী করা উচিত?
হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবায় যোগাযোগ করুন। নিজে থেকে গ্যাসের ওষুধ খেয়ে অপেক্ষা করবেন না।
৩. হার্ট অ্যাটাক কি কম বয়সেও হতে পারে?
হ্যাঁ। কম বয়সেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তাই বয়স কম বলে উপসর্গ উপেক্ষা করা উচিত নয়।
৪. হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে গোল্ডেন আওয়ার কেন গুরুত্বপূর্ণ?
দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে হৃদ্যন্ত্রের ক্ষতি কমানো এবং প্রাণ বাঁচানোর সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তাই এক ঘণ্টা অপেক্ষা না করে উপসর্গ দেখা দিলেই সাহায্য নিন।
৫. পুজোর ভিড়ে সিওপিডি-র রোগীরা কী ভাবে সতর্ক থাকবেন?
চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী ইনহেলার সঙ্গে রাখুন, ধুলো-ধোঁয়া ও দমবন্ধ পরিবেশ এড়িয়ে চলুন এবং শ্বাসকষ্ট বাড়লে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
