ধর্মকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিদ্বেষ, উসকানি, বৈষম্য বা সহিংসতা কাম্য নয় বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি, সব ধর্মই মানুষকে ভালবাসতে শেখায়, এবং শান্তির পথে চলার শিক্ষা দেয়। তাই ধর্মকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিদ্বেষ, উস্কানি, বৈষম্য বা সহিংসতা আমাদের কাছে কাম্য নয়। আসুন আমরা সবাই মিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন মানবিক ও বহুত্ববাদী বাংলাদেশ গড়ে তুলি যেখানে রাষ্ট্র হবে সকলের, অধিকার হবে সকলের এবং ভবিষ্যৎ হবে সকলের।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজারবাগ বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। পবন দাসের সভাপতিত্বে গুরুদাসের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি যদু চন্দ্র দাস, পঞ্চায়েত সভাপতি ঠাকুর দাস, সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী হাবিব বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে মহান মুক্তিযুদ্ধে কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান, এমন প্রশ্ন ছিল না। সবার লক্ষ্য ছিল লাল সবুজের পতাকার স্বাধীন বাংলাদেশ। আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশ, ২৪ পরবর্তী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তথাকথিত সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নিয়ে চিন্তার কোনো অবকাশ নেই। ধর্ম বর্ণ, জাত পাত এসব ভিন্ন ভিন্নভাবে ভাগ করার সুযোগ নাই। বিএনপির নীতি, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষ, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। ঐক্য, সম্প্রীতি, সাম্য ও অধিকারভিত্তিক একটি বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের ১৯ দফার দ্বিতীয় দফায় সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকল নাগরিকের পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করা। তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার দ্বিতীয় দফাতে সম্প্রীতিমূলক জাতিসত্তা বা রেইনবো নেশনের কথা উল্লেখ আছে। যত মূল্যবান, যত সুন্দর হোক, এক ফুলে কখনো মালা গাথা যায় না,, নানা রঙের, নানা গন্ধের, হরেক রকমের ফুল সুতায় বাধলেই তা মালা হয়ে সৌন্দর্য বাড়ায়। আমরা মনে করি হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, ধর্ম-বর্ণ সবগুলো এক একটি ফুলের সৌন্দর্য। আর এসব ফুল মিলিয়েই হচ্ছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপি একটি ঐক্যের দল, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দল। এই দল বিশ্বাস করে বাংলাদেশ কারো একার নয়, বাংলাদেশ এদেশের প্রতিটি নাগরিকের। আমাদের সুস্পষ্ট নীতি- ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। আমরা বিশ্বাস করি ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, ধর্ম যার যাই হোক, রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সমান। প্রত্যেক মানুষ তার নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবেন, নিরাপদে বসবাস করবেন এবং রাষ্ট্রের কাছ থেকে সমান মর্যাদা ও অধিকার পাবেন, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।
আমাদের কাছে ধর্মীয় সম্প্রীতি শুধুমাত্র একটি স্লোগান নয়, অথবা রাজনীতির ময়দানে ভোট পাওয়ার ধান্দাবাজিও নয়, পাহাড় কিংবা সমতলে, গ্রাম কিংবা শহরে, ধর্ম কিংবা বর্ণে, প্রতিটি প্রান্তের মানুষ, প্রতিটি জাতি গোষ্ঠীর মানুষের মান-মর্যাদা, নিরাপত্তা, সাংবিধানিক অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, এবছর জনগণের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপনাদের দাবির প্রেক্ষিতে একদিন ছুটি বৃদ্ধি করে তিন দিন নির্ধারণ করেছেন। এর সাথে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী সহ কার্যত দেশবাসী পাঁচ দিনের ধারাবাহিক ছুটি ভোগ করছেন। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্যোগী হয়ে পূজা মণ্ডপ গুলোতে সরকারি অনুদানের পরিমাণ ৫ কোটিতে উন্নীত করেছেন। দেশের সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পূজা মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে। সরকারের এসব সিদ্ধান্তে আপনাদের নেতৃত্ববৃন্দ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এজন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া, বাংলা বান্দা থেকে হাতিয়া বাংলাদেশের প্রতিটা প্রান্তরে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা হিন্দু ভাই-বোনদের পাশে থেকে ধর্মীয় সৌহার্দ ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। যার প্রেক্ষিতে এবছর রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ৩৪ হাজারের কাছাকাছি পূজা মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫০০ টি বেশি।
আমাদের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৯ আসনে ৯৯ টি পূজা মণ্ডপে খিলগাঁও, মুগদা, সবুজবাগ থানার ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল সহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে পূজা মণ্ডপগুলোর সার্বিক শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখতে কাজ করছে। উৎসব আনন্দের মধ্যে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে আমরা সে ব্যাপারে দৃষ্টি রাখছি এবং যে কোন সহযোগিতায় আপনাদের পাশে আছি।
