বাংলাদেশের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭ হাজার রান ও ৩০০ উইকেটের ‘ডাবল’ পেয়েছেন শুভাগত হোম। তৃতীয় রাউন্ডের দ্বিতীয় দিন শেষে ১৭৬ রানে অপরাজিত আছেন রাজশাহীর তরুণ ব্যাটসম্যান নাঈম আহমেদ।
শুভাগতর অনন্য ‘ডাবল’
৪ উইকেটে ২২৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা ময়মনসিংহ দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ১ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলে আরও ২ উইকেট। ফিরে যান আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মাহফিজুল ইসলাম (১১৬) ও রিজান হোসেন (৪৪)। ৫ রান যোগ হওয়ার পর বিদায় নেন আবু হায়দারও। ২৩২/৭ হয়ে যাওয়া সেই ময়মনসিংহ ঢাকার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত অলআউট হয়েছে ৩৮৭ রানে।
শুভাগত হোম ও রাকিবুল হাসান ঢাকার বোলারদের হতাশ করে অষ্টম উইকেটে যোগ করেন ১২৮ রান। শুভাগত ও রাকিবুল, দুজনেই ফিফটি পেয়েছেন। শুভাগত ৭১ ও অধিনায়ক রাকিবুল করেছেন ৬১ রান। ৭০ রানে মাথায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন শুভাগত। তাতে বাংলাদেশের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭ হাজার রান ও ৩০০ উইকেটের ‘ডাবল’ পেয়ে গেলেন শুভাগত।
ঢাকার লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম ৪ ও পেসার সুমন খান পেয়েছেন ৩ উইকেট। তাঁদের দল দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ১২০ রান তুলে। অধিনায়ক মোহাম্মদ নাঈম অপরাজিত আছেন ৬৪ রানে।
মিম–আকবরের টানা তিন
এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগে টানা তৃতীয় ম্যাচে প্রথম ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেললেন মিম মোসাদ্দেক। প্রথম ম্যাচে ঢাকার বিপক্ষে ৬০ ও দ্বিতীয় ম্যাচে ময়মনসিংহের বিপক্ষে ১৫৭ রানের ইনিংস খেলা রংপুর ওপেনার আজ তৃতীয় রাউন্ডে সিলেটের বিপক্ষে খেলেছেন ৫৯ রানের ইনিংস। আগের দুই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি পাওয়া রংপুর অধিনায়ক আকবর আলী এবার প্রথম ইনিংসে খেলেছেন ৭৪ রানের ইনিংস।

তবু তাঁদের দল খুব বেশি রান করতে পারেনি। চট্টগ্রামে ১ উইকেটে ৩২ রান নিয়ে দিন শুরু করা দলটি অলআউট হয়েছে ২০৬ রানে। তাতেই অবশ্য প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় রংপুর। তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৩৪ রান তুলে সিলেট এগিয়ে গেছে ৭ রানে।
সিলেটের অফ স্পিনার নাঈম আহমেদ ২৫ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেওয়ার পথে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। জাতীয় দলের তারকা নাসুম আহমেদ নিয়েছেন ৩ উইকেট।
আফিফের ফিফটির পরও অস্বস্তিতে খুলনা

সিলেটে দ্বিতীয় দিন শেষে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ১১২ রানে এগিয়ে খুলনা। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৬১ রান তোলা খুলনা আর কত রানের লিড নিতে পারবে, দেখার আছে সেটিই। দলের ভরসা হয়ে ৫৮ রানে অপরাজিত আছেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা আফিফ হোসেন। দলটির ওপেনার এনামুল হক করেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৩ রান।
এর আগে ৩ উইকেটে ৭০ রান নিয়ে দিন শুরু করা চট্টগ্রামের প্রথম ইনিংস থামে ২৫০ রানে। ফিফটি পেয়েছেন তিন ব্যাটসম্যান শাহাদাত হোসেন (৫০), ইরফান শুক্কুর (৫৯) ও শামীম হোসেন (৫১)। খুলনার অফ স্পিনার শেখ পারভেজ ৪টি ও সামিউন বাসীর পেয়েছেন ৩ উইকেট।
এক দিনে ৪০০ রান রাজশাহীর, নাঈম অপরাজিত ১৭৬

রাজশাহীতে আজ দ্বিতীয় দিনে বরিশালের বিপক্ষে ৪ উইকেট হারিয়ে ঠিক ৪০০ রান তুলেছে রাজশাহী। দ্বিতীয় দিন শেষে দলটির স্কোর ৫ উইকেটে ৪২৪ রান। স্বাগতিকেরা এগিয়ে ১৯৫ রানে।
রাজশাহীর বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নাঈম আহমেদ প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে অপরাজিত আছেন ১৭৬ রানে। ২৩৩ বলের ইনিংসে ২৫টি চার মেরেছেন ২১ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।
১৫২ রানের চতুর্থ উইকেট জুটিতে তাঁর সঙ্গী সাব্বির রহমান করেছেন ৮৬ রান। এ ছাড়া এসএম মেহেরব অপরাজিত ৫৭ রানে।
