জাল স্বাক্ষরে ব্যক্তিগত জামিনদারির দলিল তৈরি করে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শাখা থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার মামলায় এক ব্যবসায়ীকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে সব ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাভোগ করতে হবে।
দণ্ডিত ব্যবসায়ীর নাম মোহাম্মদ শাহ আলম। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, শাহ আলম ও তাঁর ছেলে এস এম পারভেজ আলম তিন সহোদরের স্বাক্ষর জাল করে ২০০৪ সালে চারটি ব্যক্তিগত জামিনদারির দলিল তৈরি করেন। এসব দলিলে প্রত্যেকের নামে ২৫ কোটি টাকা করে দেখানো হয়।
পরে এসব জাল দলিল ব্যবহার করে ২০১২ সালে প্রিমিয়ার ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে পাঁচটি এলটিআর ও একটি সিসি (হাইপো) ঋণ সুবিধার বিপরীতে ২৯ কোটি ৯৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৮২ টাকা ঋণ নেওয়া হয়।
ঋণের বিপরীতে ৮ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪৮ টাকা পরিশোধ করা হয়। ২০১৪ সালের ১১ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ১৪ হাজার ৭১২ টাকা।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক এইচ এম আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার শুরু হয়।
দুদকের চট্টগ্রাম আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোকাররম হোসেন বলেন, মামলায় সাতজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের সাক্ষ্য-প্রমাণে জাল স্বাক্ষরে জামিনদারির দলিল তৈরি করে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
আদালত দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় তিন বছর, ৪৬৭ ধারায় পাঁচ বছর, ৪৬৮ ধারায় তিন বছর এবং ৪৭১ ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। সব ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। এ ছাড়া তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
The post ১৬ বছরের কারাদণ্ড, ভোগ করতে হবে ৫ বছর appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
