নাড়ু শব্দটি এসেছে লড্ডু থেকে। হ্যাঁ, লড্ডুক বা লড্ডু থেকে লাড়ুর উৎপত্তি। তার পরে কথ্য ভাষায় ভাঙতে ভাঙতে নাড়ু।
লক্ষ্মী পুজোর নাড়ুর উপাদান মূলতঃ নারকেল, তিল, চিনি, গুড়।
তিল, নারকেল এগুলি আদতে কী? বিজ্ঞানের নিরিখে এগুলি স্নেহ পদার্থ, অর্থাৎ এদের থেকে তেল উৎপাদন করা যায়। নাড়ুর দ্বিতীয় উপাদান শর্করাও (চিনি ও গুড়) এক অর্থে স্নেহ। কারণ স্নেহের প্রকাশ সদা মিষ্টি হয়।
আর হবে না-ই বা কেন? লক্ষ্মী দেবী যে স্নেহময়ী!
নমস্তে সর্বলোকানাং জননীমব্জসম্ভবাম্।
শ্রিয়মুনীন্দ্র পদ্মাক্ষীং বিষ্ণুবক্ষ:- স্থলস্থিতাম।
সমুদ্রমহনে বিপুল ধনরাশি ও রত্নরাজি সহ মা উঠিলেন। চতুর্দিক
উদ্ভাসিত হইয়া গেল। ইন্দ্রদেব মা-কে বন্দনা করিলেন।
“হে মা, আপনি সর্বলোকের জননী। প্রস্ফুটিত পদ্মের ন্যায় বিস্তৃত আপনার দৃষ্টি। সবাইকে আপনি আপনার কোমল কোরকে ঠাঁই দিয়েছেন। আপনি স্বয়ং শ্রী বিষ্ণুর হৃদমনি। এ তাবৎ জগৎ আপনারই। ইন্দ্রদেব আপনাকে প্রণাম করেন।”
অর্থাৎ, সর্বত্রই দেবী লক্ষ্মীর সঙ্গে শ্রী, ঐশ্বর্য, স্নেহ, লালিত্যের যোগ। মা কমলা আসলে অন্তরের ঐশ্বর্য বা অন্তঃশ্রীর দেবী। সে জন্যই তিনি মানুষের চতুর্দশা— ধর্ম, কাম, অর্থ ও মোক্ষকে ধারণ করেন।
এই নারকেল বা তিলের নাড়ু সেই মাতৃস্নেহকেই প্রসাদ রূপে গ্রহণের দ্যোতনা দেয়। মায়ের স্নেহের পদার্থরূপী বাস্তব রূপ হল নাড়ু। ভাবা যায়!
দ্বিতীয়ত, নাড়ু আকারে গোল। একটি পরিপূর্ণ বৃত্ত। আদতে যার কোনও শেষ নেই।
বহিরঙ্গের নিরিখে নাড়ু খাবার। কিন্তু এর মর্মে যে দর্শন লুকিয়ে আছে, তা হয়তো পর্বতোপম। লক্ষ্মীপুজোর প্রসাদী নাড়ুতে কামড় দিয়ে বিষয়টি তলিয়ে ভেবে দেখতে পারেন।
এই প্রতিবেদনটি “আনন্দ উৎসব” ফিচারের একটি অংশ।
