ভারত-মালদ্বীপ সম্পর্ক কূটনৈতিক টানাপোড়েন পেরিয়ে বন্ধুত্বের চেনা স্রোতে বইতে শুরু করেছে বলে মনে করছিল রাজনৈতিক মহল। ঠিক সেই সময় উলটো স্রোতে নৌকা বাইতে শুরু করলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু। দিল্লিকে পাশ কাটিকে পাকিস্তানের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে শুরু করল ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্র। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ২০টি চুক্তি স্বাক্ষর করলেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা চুক্তিও। পাকিস্তানের কক্ষপথে মালদ্বীপের ঘোরাফেরা স্বাভাবিকভাবেই চিন্তা বাড়িয়েছে ভারতের।
২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের সফরে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু। এই সফরে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পাশাপাশি সেনাপ্রধান আসিম মুনির, উপপ্রধানমন্ত্রী ইশক দার-সহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এমনকী সেখানকার এক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে ডক্টরেট উপাধিও নেন এই নেতা। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই সফরে ২০টি চুক্তি সই করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহায়তা, পুলিশি ব্যবস্থা, সমুদ্র নিরাপত্তা ও বাণিজ্য। এমনকী দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-কে পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন জানান তিনি। শেষবার এই সংগঠনের বৈঠক হয়েছিল ২০১৪ সালে কাঠমান্ডুতে। পাকিস্তানের সঙ্গে মালদ্বীপের এই ঘনিষ্ঠতা প্রশ্ন তুলছে, ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্র ইসলামাবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে না তো? যদি তাই হয় সেক্ষেত্রে নয়াদিল্লির জন্য এর অর্থ কী দাঁড়াবে?
২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের সফরে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু। এই সফরে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পাশাপাশি সেনাপ্রধান আসিম মুনির, উপপ্রধানমন্ত্রী ইশক দার-সহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
ভারত সমাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের অন্যতম প্রহরী মালদ্বীপ। দেশটির আন্তর্জাতিক জলসীমা ঐতিহ্যগতভাবে নয়াদিল্লির প্রত্যক্ষ কৌশলগত এলাকা এবং প্রভাব বলয়ের মধ্যে পড়ে। যার জেরে ভারতের কাছে মালদ্বীপের গুরুত্ব অনেক বেশি। অতীতে দেশটির নানা বিপদে সাহায্যের হাত পাড়িয়েছে দিল্লি। তা সে মানবিক সহায়তা হোক বা চিকিৎসা সহায়তা। ২০২৩ সালে ‘ইন্ডিয়া আউট’ প্রচারের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলেন মুইজ্জু। সরকার গঠনের পর শুরু হয় তাঁর ভারত বিরোধিতা। তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর, বন্ধুত্বের সেই সম্পর্কে চিড় ধরে। ২০২৪ সালে সেখানে অবস্থিত ভারতীয় সেনাকে সরানো হয়। ভারত পালটা পদক্ষেপ করলে চাপে পড়ে দেশটি। শুরু হয় দুই দেশের তিক্ত সম্পর্ক মেরামতের কাজ। এরই মাঝে মুইজ্জুর পাক প্রীতি ভারত যে ভালো চোখে দেখবে না তা বলাই বাহুল্য।
এদিকে গত বুধবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মুইজ্জু বলেন, “মালদ্বীপ সার্কের গুরুত্ব বাড়াতে আগ্রহী। এবং সম্মিলিত পদক্ষেপের মাধ্যমে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের অঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।” তিনি আরও ঘোষণা করেন পাকিস্তান ও মালদ্বীপ “আমাদের ছয় দশকের বন্ধুত্বের ভিত্তির ওপর অংশীদারিত্বের এক নতুন যুগ গড়তে এবং একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে” সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান সিন্ধু জলচুক্তি ও কাশ্মীর ইস্যুতে উসকানি মূলক মন্তব্য করলেও বুদ্ধিদীপ্তভাবে সে বিতর্ক পাশ কাটান মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট।
