ভারতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সব বিরোধী দলকে একসঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
তিনি বলেছেন, আর কোনো বিচ্ছিন্ন আন্দোলন হবে না। এখন একটাই আন্দোলন, আর তার লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার।
সোমবার (১২ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে বিরোধী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ পদযাত্রার পর মঙ্গলবার এসব কথা বলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
ভারতের বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া’র ১৬টি দলের নেতাদের নিয়ে চা-চক্রের আয়োজন করেন তিনি। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রাহুল বলেন, ‘আমরা সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়েছি। যেমনটা গতকাল বলেছিলাম, আলাদা আলাদা কোনো আন্দোলন নেই। একটিই আন্দোলন, আর তার একটাই লক্ষ্য—ভারতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার।
রাহুলের অভিযোগ, ভারতে গণতন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। নির্বাচনি ব্যবস্থাও নষ্ট করা হয়েছে এবং সংবিধানকে ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসন ফিরিয়ে আনতে আমরা একসঙ্গে লড়াই করছি।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ১২ অক্টোবর দিল্লিতে পদযাত্রা করেন রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা।
দিল্লির বারাখাম্বা রোড থেকে শুরু হওয়া ওই পদযাত্রায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। পদযাত্রা শেষে নেতারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে যৌথ আবেদন জমা দেন।
এর আগে গত ৬ অক্টোবর বিরোধী নেতারা নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের দিকে পদযাত্রা করতে চাইলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে রাহুল গান্ধী আকাশবাণী ভবন চত্বরে আট ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
পরদিন জন্তর মন্তরের দিকে পদযাত্রা করতে গিয়েও বাধার মুখে পড়েন বিরোধী নেতারা। তাদের কয়েকজনকে আটক করা হয়। এরপর তারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি দেন।
দিল্লির জন্তর মন্তর দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের পরিচিত স্থান। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।
বিরোধী জোটের নেতারা মঙ্গলবারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নেবেন এবং জন্তর মন্তরকে আবার আন্দোলনের জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, গণতান্ত্রিক দাবি প্রকাশের অন্যতম জায়গা ছিল জন্তর মন্তর। এখন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেখানে আর গণতান্ত্রিক মত প্রকাশ করা যাবে না। আমরা এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করব।
তিনি আরও বলেন, ভারতের মানুষকে নিজেদের কথা বলার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এত সহজ হবে না। যারা এসব করেছেন, তাদের বুঝতে হবে, তাদের চারপাশে চাপ বাড়ছে। দেশের সংবিধান ধ্বংস করে পার পেয়ে যাওয়া যাবে না।
রাহুল গান্ধী বলেন, গত সোমবারের পদযাত্রা শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি ছিল না। এটি ছিল ভারতের সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের একটি বড় উদাহরণ।
তিনি বলেন, গতকাল আপনারা যা দেখেছেন, তা এখানে উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলোর একার প্রকাশ ছিল না। এটি ছিল ভারতের মানুষের অভিব্যক্তি। সাধারণ মানুষ ও রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন—এমন নাগরিকদের অংশগ্রহণ ছাড়া ওই কর্মসূচি সফল হতো না।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া দিল্লি ও ভারতের সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। রাহুল বলেন, ‘এই আন্দোলন আমাদের নিয়ে নয়। এটি ভারতের মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
বিরোধী জোটের বৈঠকে আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠেয় সমাবেশ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ওইদিন পার্লামেন্টের আদলে একটি প্রতীকী অধিবেশন আয়োজনের প্রস্তাব এসেছে। এতে ভোটাধিকার হারানো বিভিন্ন রাজ্যের মানুষের বক্তব্য শোনা এবং জনশুনানির মতো কর্মসূচি আয়োজনের কথাও ভাবা হচ্ছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
উৎসবের মৌসুম শুরু হওয়ায় দিল্লিতে প্রতিদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সাময়িক বিরতি আসতে পারে। তবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিরোধী নেতারা একমত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
