জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচ শেষে রাজশাহী ফেরার পথে চলন্ত কাভার্ড ভ্যান থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেটারদের মূল্যবান লাগেজ চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর এলাকায় অভিনব কায়দায় এ চুরির ঘটনা ঘটে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া মালামালের বড় একটি অংশ উদ্ধার করেছে। তবে একটি লাগেজে থাকা ক্রিকেটার এস এম মেহেরব হাসানের তিন লাখ টাকা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার চামটা গ্রামের মোজাম্মেল হক (৩২), পুঠিয়া উপজেলার গণ্ডগোহালী জামতলা গ্রামের সোহান রহমান (২৩), বারইপাড়া গ্রামের রুবেল আহমেদ (৩৮) এবং তারাপুর গ্রামের শাহাদত হোসেন (৫২)। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে রাজশাহী, টাঙ্গাইল ও নাটোরে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া সোহান ও রুবেলের বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষ করে বুধবার সকালে ঢাকা থেকে আকাশপথে রাজশাহী ফেরেন বিভাগীয় দলের ক্রিকেটাররা। এর আগে বিসিবির একটি কাভার্ড ভ্যানে দলটির মোট ৫৪টি লাগেজ সড়কপথে ঢাকা থেকে রাজশাহী পাঠানো হচ্ছিল। ভোররাতে নাটোরের হরিশপুর বাইপাস মোড়ে কাভার্ড ভ্যানের চালক গাড়ির তালা পরীক্ষা করে পুনরায় যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে পুঠিয়ার তারাপুর মোড়ে পৌঁছালে চলন্ত ওই কাভার্ড ভ্যানের পেছনে মোটরসাইকেলে করে এসে একদল চোর অত্যন্ত সুকৌশলে তালা ভেঙে আটটি লাগেজ চুরি করে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে পেছন থেকে আসা আরেকটি গাড়ির চালক বিষয়টি কাভার্ড ভ্যানচালক সজীবকে অবহিত করেন। চালক সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থামিয়ে পেছনের দরজার তালা ভাঙা ও দরজা খোলা দেখতে পান। পরে হোটেলে পৌঁছে লাগেজ নামানোর সময় গণনায় দেখা যায়, দলের ৫৪টি লাগেজের মধ্যে ৪৬টি রয়েছে এবং আটটি লাগেজ খোয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্রিকেটার এস এম মেহেরব হাসান নগরের রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর থেকেই লাগেজগুলো উদ্ধারে মাঠে নামে রাজশাহী ও নাটোর জেলা পুলিশ।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুরো চোর চক্রটিকে শনাক্ত করে জেলা ডিবি পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে পুঠিয়ার তারাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চক্রের সদস্য শাহাদত হোসেনের বাড়ি থেকে খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, ৩০০ মার্কিন ডলার, একটি ম্যাসাজ বেড, একটি ল্যাপটপ, চারটি প্লাস্টিকের বাক্স এবং নগদ আট হাজার টাকা। এছাড়া চুরির কাজে ব্যবহৃত তালা ভাঙার বিভিন্ন সরঞ্জাম ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুঠিয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
