পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়ে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মুফতি নাসরুল্লাহ (৩৫) নামের এক বাংলাদেশি আলেম নিহত হয়েছেন।
শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
রোববার সন্ধ্যায় তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান।
নিহত মুফতি নাসরুল্লাহ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর ওলামা বাড়ির মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে। তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলূম মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এদিকে নাসরুল্লাহর মৃত্যুর খবরে তার গ্রামের বাড়িসহ কামরাঙ্গীরচরের মাদ্রাসায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরাজ করছে শোকাবহ পরিবেশ।
নিহতের বড় ভাই মাওলানা আহসান উল্লাহ বদর জানান, শনিবার সকালে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকার বাসা থেকে বের হন নাসরুল্লাহ। দুপুর দেড়টার দিকে তাদের বহনকারী বিমানটি রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে মদিনা যাওয়ার জন্য ট্রানজিট এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন নাসরুল্লাহসহ অন্য ওমরাহ যাত্রীরা। এ সময় বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে নাসরুল্লাহ গুরুতর আহত হন।
এর আগে রিয়াদে নেমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে দোয়া চেয়েছিলেন তিনি। হামলার পরপরই সফরসঙ্গীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।
নাসরুল্লাহর বাবা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, রিয়াদ বিমানবন্দরে নেমে ছেলে আমাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিল। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারিনি। রোববার বিকালে মৃত্যুর খবর পাই। আমরা তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, আমরা নিহত মুফতি নাসরুল্লাহর পরিবারের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।