বরিশালের উজিরপুরে যুবদল কর্মী কাওসার হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের পর মামলার দুই আসামির বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যার পর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলামদী গ্রামের খালপাড় বড় ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি সজল মোল্লার বাড়ি এবং ভরচ্ছন্ন এলাকার নান্না মোল্লার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হাওলাদার জানান, বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম অগ্নিসংযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একটি টিনের ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
আগুনে ঘরটি পুড়ে গেছে। অন্য একটি ঘরেও আগুন দেওয়ার খবর পেয়েছেন তারা। সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে কারা আগুন দিয়েছে, তা এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এদিকে শনিবার এশার নামাজের পর জানাজা শেষে কাওসার হাওলাদারের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার প্রত্যন্ত পশ্চিম সাতলা এলাকায় কাওসার হাওলাদারকে (৩২) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ মাইক্রোবাসসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় শুক্রবার রাতেই প্রযুক্তির সহায়তায় পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উজিরপুর উপজেলার আলামদী গ্রামের ফরিদ মোল্লার ছেলে সজল মোল্লা ও শামীম মোল্লা, একই উপজেলার মোবারক মোল্লার ছেলে তরিকুল ইসলাম, মুলাদী থানার দড়িচর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে সোহাগ, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার জাহিদ শেখের ছেলে সাগর শেখ, গোপালগঞ্জের ভুমদিয়া গ্রামের হাচান শেখের ছেলে হাসিব শেখ ও হাবিব শেখ, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার মানিকখালী গ্রামের মালেক হাওলাদারের ছেলে মাহাবুবুর রহমান এবং ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার বাটামারা গ্রামের লোকমান হাকিমের ছেলে শরীফ হোসেন।
শনিবার নিহত কাওসারের মেজ ভাই মোস্তফা হাওলাদার বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আগুন দেওয়ার সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।
বিআলো/আমিনা