সৌদি আরবের রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী মুফতি মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এমপি। নিহতের পরিবারের স্থায়ী আবাসন, সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই ঘটনায় হামলার শিকার ওমরাহ কাফেলার দেশে ফেরা ৩৩ সদস্যকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার শিকার হন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৪৫ সদস্যের একটি ওমরাহ কাফেলা। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি নিহত হন বাংলাদেশের কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা মুফতি মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি (৪৫)। তিনি ওই ওমরাহ কাফেলার দলনেতা ও ইমাম ছিলেন। এ ঘটনায় কাফেলার আরও কয়েকজন সদস্য আহত হন।
হামলার খবর পাওয়ার পরপরই ধর্মমন্ত্রী আক্রান্ত ওমরাহযাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেন। সে সময় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকলেও তিনি সার্বক্ষণিকভাবে তাঁদের খোঁজখবর রাখেন। হামলায় যাত্রীদের লাগেজ হারিয়ে যাওয়ায় তাঁদের আপ্যায়ন ও নতুন পোশাকের ব্যবস্থাও করেন তিনি। পাশাপাশি দেশে ফেরার টিকিট নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নিহত নাসরুল্লাহ বদরপুরির পরিবারের খোঁজখবর নিতে গত ১৩ অক্টোবর ধর্মমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মাওলানা ইয়াকুব ওসমানীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নাঙ্গলকোটের বদরপুরে তাঁর বাড়িতে যায়। সেখানে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। নিহতের মরদেহ দাফন, পরিবারের স্থায়ী আবাসন এবং সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
এ ছাড়া পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে নাসরুল্লাহর মরদেহ জান্নাতুল বাকিতে দাফন অথবা দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন ধর্মমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরিবারটিকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন।
এদিকে হামলার শিকার ৪৫ সদস্যের ওমরাহ কাফেলার ৩৩ জন সদস্য মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান। ধর্মমন্ত্রীর নির্দেশনায় তাঁর একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ, পরিচালক (হজ) মো. লোকমান হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তাঁদের অভ্যর্থনা জানান।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ছাদেক আহমদ বলেন, সৌদি আরবে আটকে পড়া ওমরাহযাত্রীদের অভ্যর্থনা জানাতে ধর্মমন্ত্রীর নির্দেশনায় তাঁরা বিমানবন্দরে এসেছেন। মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে দেশে ফেরা যাত্রীদের নৈশভোজের ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি তাঁদের নিজ নিজ মাদ্রাসা ও বাসায় নিরাপদে পৌঁছে দিতে পরিবহনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়েও ওমরাহযাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন ধর্মমন্ত্রী। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের জন্য করণীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের মহাসচিব আকরাম হোসাইনের নেতৃত্বে ওলামায়ে কেরাম ও ওমরাহ কাফেলার সদস্যরা বিপদের মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানো এবং সার্বিক সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ধর্মমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
দেশে ফেরা যাত্রীরা বলেন, সৌদি আরবে হামলার ঘটনার পর ধর্মমন্ত্রী নিয়মিত তাঁদের খোঁজখবর নিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছেন এবং দেশে ফেরার পাশাপাশি নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছেন। এ জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সৌদি আরবে অবস্থানকালে চিকিৎসা, আবাসন ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ায় সৌদি সরকারের প্রতিও ধন্যবাদ জানান তাঁরা।
বিমানবন্দরে এ সময় জামেয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি ফয়জুল্লাহ, জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
