সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় মদিনার আকাশে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করার দাবি করেছে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জোটের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
ইয়েমেনে বৈধ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে তিনি জানান, মদিনা অঞ্চলে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল বা এর লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দেয়নি জোট। এ ঘটনায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবরও জানানো হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবরের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল।
তবে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, গতকাল সৌদি আরবে কোনো হামলা চালায়নি তাদের বাহিনী। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই তিনি এ কথা বলেন। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎস ও এ ঘটনার সঙ্গে হুতিদের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত বুধবার সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আরও হামলা চালানোর হুমকি দেয় হুতিরা। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার খবরের এক দিন পর এ হুমকি দেয় গোষ্ঠীটি। হুতিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাবে তারা এসব স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
হুতিরা বলেছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু। আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থা, বেসামরিক নাগরিক ও কর্মীদের এসব স্থাপনা থেকে সরে যাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে তারা। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে এ হুমকি এল।
বুধবার হুতিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ধাহরানে সৌদি আরামকোর স্থাপনা, রিয়াদের বিমানবন্দর এবং রাজধানীতে আরামকোর একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে সব পক্ষের বক্তব্য এক নয়।
হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার প্রভাবে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গত ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হওয়ার পর সৌদি আরবগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল করেছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা। গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হুতিদের হামলা বেড়েছে।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে ২০১৫ সালে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে সৌদি আরব। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও চলতি বছর আবার সংঘাত তীব্র হয়েছে। গত মাসে হুতিরা লোহিত সাগর উপকূল ধরে বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হলে সৌদি আরব ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সমর্থনে সামরিক অভিযান পুনরায় জোরদার করে।
সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতিও অবনতির দিকে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি জানিয়েছে, লড়াই বেড়ে যাওয়ায় দেশটির বিভিন্ন হাসপাতাল আহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বলেছে, হুতিদের অবরোধে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তাইজ শহরে ৬ লাখের বেশি মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে দুই লাখের বেশি নারী ও শিশু রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা ও গালফ নিউজ
