আজকাল ওয়েবডেস্ক: এটিএম থেকে টাকা তুলতে গিয়ে অনেক সময় গ্রাহককে সমস্যায় পড়তে হয়। কখনও অ্যাকাউন্ট থেকে পুরো টাকা কেটে নেওয়া হলেও মেশিন থেকে বেরোয় কম টাকা, কখনও আবার টাকাই বেরোয় না। এমনই একটি ঘটনায় গ্রাহকের পাশে দাঁড়াল উদয়পুরের জেলা ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন। অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হলেও এটিএম থেকে মাত্র ১ হাজার টাকা পেয়েছিলেন এক ব্যক্তি। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ব্যাঙ্ককে বাকি ৯ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচ বাবদ আরও ৭ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। অর্থাৎ, মোট ১৬ হাজার টাকা পাবেন ওই গ্রাহক।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০১৭ সালের ১০ মার্চের। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন ছিল ওই ব্যক্তির। সেই কারণে তিনি অন্য একটি ব্যাঙ্কের পরিচালিত এটিএম থেকে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু মেশিন থেকে বেরোয় মাত্র ১ হাজার টাকা। অথচ অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হয় সম্পূর্ণ ১০ হাজার টাকা।
দায় এড়াতে পারে না ব্যাঙ্ক
ঘটনার পরই অভিযোগ জানিয়েছিলেন ওই গ্রাহক। কিন্তু ব্যাঙ্কের দাবি ছিল, লেনদেনটি ১০ হাজার টাকারই ছিল এবং টাকা স্থানান্তরিত হয়েছে। এটিএম পরিচালনাকারী সংস্থাও দায় নিতে চায়নি। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। পরে ব্যাঙ্কিং ওম্বাডসম্যানের দ্বারস্থ হলেও ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর তাঁর অভিযোগ খারিজ হয়ে যায়।
এরপর উদয়পুর জেলা ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনে মামলা করেন ওই ব্যক্তি। কমিশনের সভাপতি সুমন গৌর এবং সদস্য মনীশ পারমারের বেঞ্চ জানায়, গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়ার পর তা ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব এড়াতে পারে না ব্যাঙ্ক। অন্য ব্যাঙ্কের এটিএম ব্যবহার করা হলেও গ্রাহকের অভিযোগের সমাধান করার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের রয়েছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বরের নির্দেশে কমিশন ৯ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও মামলার খরচ বাবদ ৭ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এটিএম থেকে কম টাকা পেলে কী করবেন?
এটিএম থেকে কম টাকা পেলে দ্রুত নিজের ব্যাঙ্কে অভিযোগ জানান। লেনদেনের এসএমএস, রসিদ এবং ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট সংরক্ষণ করুন। অভিযোগের লিখিত প্রমাণ রাখুন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে ব্যাঙ্কিং অভিযোগ নিষ্পত্তির উপযুক্ত ব্যবস্থা বা ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের সাহায্য নিতে পারেন। প্রয়োজনে জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা হেল্পলাইন ১৯১৫-এও যোগাযোগ করা যায়।
https://www.youtube.com/watch?v=jNGYSN4KXPc&t=3s
