বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া ও রনি রিয়াদ রশীদ। তারপর চলতে থাকে তাদের প্রেম। ২০১৮ সালে দুই পরিবার থেকে বিয়ের চাপ আসে। পরের বছরই বিয়ে করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু সে পরিকল্পনাও বদলে ফেলেন এই যুগল।
দীর্ঘ সাত বছর প্রেম করার পর ২০২০ সালের ২১ মার্চ পারিবারিক আয়োজনে বাগদান সারেন ফারিয়া-রনি। কথা ছিল, একই বছরের নভেম্বরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে ফেলবেন তারা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে তা হয়নি। তবে মাঝে মধ্যে অবসর যাপনের জন্য এ জুটিকে বিদেশে পাড়ি জমাতে দেখা যায়।
তারপর অনেক দিন পেরিয়ে গেলেও বাগদান আর বিয়েতে রূপ নেয়নি। ২০২২ সালে ফারিয়া জানান—তিনি আর এই বিয়ে করবেন না। এরপরও কেটে গেছে কয়েক বছর। তবে নুসরাত আর বিয়ে করেননি। এবার বিয়ে করার ইঙ্গিত দিলেন এই অভিনেত্রী।
নুসরাত ফারিয়া
এ আলাপচারিতায় নুসরাতের কাছে জানতে চাওয়া হয়, নির্দিষ্ট বয়সে বিয়ে, না কি মানসিক পরিপক্বতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া গুরুত্বপূর্ণ? জবাবে নুসরাত ফারিয়া বলেন, “নির্দিষ্ট বয়স বলতে আসলে কী বোঝায়? বয়সের চেয়ে ম্যাচিউরিটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটা নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই। একা থাকা সহজ, কিন্তু সংসার করতে হলে বিশেষ বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্য ও বোঝাপড়া প্রয়োজন। জীবনসঙ্গী নির্বাচনের আগে মানুষটিকে ভালোভাবে চেনা, বোঝা এবং নিজের অহংবোধ নিয়ন্ত্রণও জরুরি।”
নিজের বিয়ের ইঙ্গিত দিয়ে নুসরাত ফারিয়া বলেন, “আমার বিয়ের সিদ্ধান্তও তখনই নেব, যখন মনে হবে জীবনের এই পর্যায়ে কিছুটা থিতু হতে চাই। আর বিয়ের পর আবার নতুন কোনো লক্ষ্যে ছুটতে ইচ্ছা করলে জীবনসঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে ছুটব। আশা করছি, এই মানসিক প্রস্তুতি খুব শিগগির চলে আসবে, তখন বিয়ে করব।”
নুসরাত ফারিয়া
বর বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যে বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেবেন নুসরাত ফারিয়া, তা-ও জানিয়েছেন। এই অভিনেত্রী বলেন, “আমার কাছে বন্ধুত্ব সবচেয়ে জরুরি। দুজন মানুষের একে অপরকে ভালো লাগতে হবে, একসঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দ পেতে হবে। জীবনে অনেক কিছু বদলে যাবে, সন্তান বড় হয়ে নিজের পথে চলে যাবে; দিন শেষে দুজন মানুষই একসঙ্গে থাকবে। তাই সারা জীবন যার সঙ্গে থাকতে ভালো লাগে, এমন কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়া জরুরি। ভালোবাসার পাশাপাশি একে অপরের প্রতি ভালো লাগা ও বন্ধুত্বও থাকতে হবে।”
তারকাদের সংসার ভাঙা প্রসঙ্গে নুসরাত ফারিয়া বলেন, “একটা সময় সমাজ কী বলবে, সেই ভয়ে অনেক মানুষ অসুখী সম্পর্কেও থেকে যেতেন। এর প্রভাব তাদের নিজেদের পাশাপাশি সন্তানদের ওপরও পড়ত। এখন মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলছেন, পরামর্শ নিচ্ছেন—কারণ সম্পর্কের নানা সমস্যাকে তারা বুঝতে শিখেছেন। দুজন মানুষ একসঙ্গে সুখী না হলে শুধু লোকের কথার ভয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।”
নুসরাত ফারিয়া
তবে কখন সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে হয়, সে বিষয়েও কথা বলেছেন নুসরাত ফারিয়া। এ অভিনেত্রী বলেন, “মতের অমিল আর কারো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া এক বিষয় নয়। কেউ ভুল করলে সেটাকে সমর্থন করা যায় না। অন্য কারো ক্ষতি না করে দুজন মানুষ নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখেন, আর সমাজেরও সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত।”
রনির সঙ্গে বাগদানের পরও কেন বিয়ে ভেঙে দিয়েছিলেন নুসরাত ফারিয়া, সেই সময়ে বিষয়টি নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলেও সঠিক উত্তর দেননি এই অভিনেত্রী। নুসরাত ফারিয়া বলেছিলেন, “এত জানার দরকার কী? ইন্ডাস্ট্রিতে অন্তত একজন নায়িকা সিঙ্গেল থাক না! জোর করে বিয়ে, বাচ্চা—এসবের দরকার নাই তো, একটু রিলাক্সে শান্তিতে থাকি না।”
নুসরাত ফারিয়া
খানিকটা ব্যাখ্যা করে নুসরাত ফারিয়া বলেছিলেন, “জীবনে ওঠা-নামা থাকবেই। আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই, কখনো হয়নি। তারপরও বিয়েটা হচ্ছে না।”
বেশ কিছু কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নুসরাত ফারিয়া। মেহেদী হাসান নির্মিত ‘লাপাত্তা’ ওয়েব ফিল্মের কাজ শেষ করেছেন। তবে একটি গান তৈরির পরিকল্পনা করছেন নির্মাতা, এটি শেষ হলে সিনেমাটির ক্যামেরা বন্ধ হবে।
নুসরাত ফারিয়া
আবদুল আজিজের গল্প নিয়ে ‘লজ্জা’ সিনেমা যৌথভাবে প্রযোজনা করছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়া। এতে অভিনয় করছেন নুসরাত। এরই মধ্যে ৬০ শতাংশ কাজ শেষ করেছেন। তাছাড়াও একাধিক ওয়েব ফিল্ম ও সিনেমার কাজ হাতে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
