Published on
:
2 min read
সিরাজ আলি খান
কলকাতার আকাশ-বাতাস এখন পুজোর গন্ধে মুখর। ঢাকের বাদ্যি আর মণ্ডপে মণ্ডপে আলোক রোশনাই। আর পাঁচটা বাঙালির মধ্যে দুর্গাপুজো নিয়ে যে উন্মাদনা থাকে, আমার পরিবারেও এখন তাই-ই। এটা আমার কাছে একেবারেই নতুন বিষয় নয়। আমার বড় বাবা মানে, আলাউদ্দিন খানের সময় থেকেই বাড়িতে পুজোআচ্চা হতো। আমি ছোট থেকেই বাড়িতে লক্ষ্মী পুজো-সরস্বতী পুজো দেখে বড় হয়েছি। তাই দুর্গাপুজোও আমাদের কাছে উৎসবই।
আত্রেয়ীরা আবার সেনগুপ্ত। ওর সঙ্গে আমার পরিচয় কলেজে পড়াকালীন। বিয়ের আগে পাঁচ বছর আমরা চুটিয়ে প্রেম করেছি। তার পর ২০১৮ সালে এনগেজমেন্ট। ঠিক দু’বছর পরে হিন্দু রীতিনীতি মেনেই আমাদের বিয়ে হয়। আত্রেয়ী নিজের পদবিই ব্যবহার করে। বিয়ের পর থেকেই আত্রেয়ী আমাদের রানিকুঠির বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো করে আসছে। আমরা দুর্গাপুজোয় একসঙ্গে অঞ্জলি দিই। আমাদের পুত্র রায়ান-ও এই দেখেই বড় হচ্ছে। অঞ্জলি থেকে ভোগ খাওয়া, রাত জেগে প্যান্ডেল হপিং — সবেতেই তার ভীষণ উৎসাহ। আসলে সঙ্গীতের তো কোনও ধর্ম হয় না। আমি ছোটবেলা থেকে এই শিক্ষাই পেয়ে এসেছি। আর এখনও অক্ষরে অক্ষরে তা মেনে চলি।
বড়বাবা এবং দাদু আলি আকবর খানের লিগ্যাসি বহন করে চলেছি আমি। ২০০২ বা ২০০৩ সাল নাগাদ মধ্যপ্রদেশের মাইহারে আমাদের পৈতৃক বাড়ির মিউজ়িয়াম থেকে বড়বাবার ১৫০ বছর পুরোনো একটি সরোদ আবিষ্কার করেছিলাম। ফেরার সময় নিজের সঙ্গে বড়বাবার ওই যন্ত্রটি নিয়েও এসেছিলাম। পরিবারের সদস্যদের অনুমতিতে ওই সরোদটির উত্তরাধিকারী এখন আমিই।
বিয়ের আগে পর্যন্ত পুজোর আনন্দটা ছিল একরকম। কারণ, প্রতি বছরই আমার কনসার্ট থাকত। তবে আত্রেয়ী আর রায়ান আমার জীবনে আসার পর থেকে পুজোর এই বিশেষ সময়টা আমি কলকাতাতেই থাকি। এ বারেও থাকছি। গড়িয়াহাট, সিংহী পার্ক, একডালিয়া কিংবা ম্যাডক্স স্কোয়ারের প্রতিমা দর্শন না করলে আমার পুজো অসম্পূর্ণ। একইসঙ্গে পুজোয় একটা দিন আমাকে মা এবং শাশুড়িকে নিয়েও বেরোতে হয়। তবে এ বছরের মূল আকর্ষণ হলো ‘বিরিয়ানির স্টল’। আমার স্ত্রী এ বছর আমাদের পাড়ার পুজোয় বিরিয়ানির স্টল দিচ্ছে। তবে এই বিরিয়ানি যে সে বিরিয়ানি নয়।
আমাদের বাড়িতে তৈরি বিরিয়ানির স্বাদ এ বার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন আমার সহধর্মিনী। আসলে দুর্গাপুজো এবং ইদ দুই-ই আমাদের কাছে সমান আনন্দের। আর উৎসবের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে খাওয়াদাওয়া। যে বিরিয়ানি আত্রেয়ী রাঁধবে, সেটা আসলে আমার মায়ের নিজস্ব রেসিপি। বাংলাদেশের কাচ্চির সঙ্গে মা অদ্ভুত ভাবে কলকাতা স্টাইল মিশিয়ে একেবারে অন্যরকম একটা বিরিয়ানি তৈরি করেন। দাদু এবং বড়বাবার সূত্রে পন্ডিত রবিশঙ্কর এবং জ়াকির হুসেনের মতো কিংবদন্তিদের আসা-যাওয়া ছিল আমাদের বাড়িতে। মায়ের হাতে তৈরি এই বিরিয়ানির স্বাদ পেয়েছিলেন তাঁরাও।