রামগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে কাগজপত্র নবায়ন না থাকা কয়েকটি ইটভাটা চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ভাটার মালিকদের সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভার পর শ্রমিক নিয়োগ ও অবকাঠামোগত কাজ জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় মোট ১৯টি ইটভাটার মধ্যে নয়টির বৈধ অনুমোদন নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আইন ও পরিবেশগত শর্ত পূরণ না করায় এসব ভাটার কাগজপত্র নবায়ন করা হয়নি। ইটভাটার মালিকদের সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৪ আগস্ট জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠানের সঙ্গে ভাটার মালিকদের সভায় নবায়ন না হওয়া মালিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সভার পরই নবায়ন না থাকা কয়েকটি ইটভাটা চালুর প্রস্তুতি শুরু হয়। এতে মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে এসব ইটভাটা চালুর চেষ্টা চলছে। কাগজপত্র নবায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া কোনো ইটভাটা যাতে চালু হতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা। সরেজমিনে ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা গ্রামের মেসার্স মদিনা ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ভাটায় গিয়ে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক শ্রমিক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। শ্রমিকরা জানান, চলতি মাসে ইটভাটাটি চালুর কথা রয়েছে। এ কারণে দ্রুত কাজ শেষ করতে তারা কাজ করছেন। স্থানীয় সাইফুল ইসলাম ফরহাদ, বোরহান উদ্দিন ও আবদুল মান্নানসহ কয়েকজনের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ২০২৫ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের লোকজন ভাটাটিতে অভিযান চালান। এ সময় বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং চিমনি ভেঙে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এরপরও ভাটাটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এভাবে কাগজপত্র নবায়ন না হওয়া বাকি আটটি ইটভাটার মালিকেরাও চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেন। স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম, সমাজসেবক তারেক মাহমুদ ও জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজন প্রশ্ন তুলছেন পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নবায়ন না থাকলে ইটভাটা চালুর প্রস্তুতি কীভাবে নেওয়া হচ্ছে? এসব ভাটা চালুর বিষয়ে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। মেসার্স মদিনা ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মালিক আমির হোসেন ডিপজলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সব ইটভাটার মালিকের সঙ্গে সভা করা হয়েছে। সভায় অবৈধ ইটভাটার মালিকদের ভাটা চালু না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর আগে তাদের নোটিশ ও গণবিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। এরপরও কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া ইটভাটা চালু করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাকে ম্যানেজ করে অবৈধ ইটভাটার চালু করার প্রস্তুতির অভিযোগ সঠিক নয়।’
এ বিষয়ে ইউএনও কাজী আতিকুর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা সভায় অবৈধ ইটভাটার বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। জেলা প্রশাসক পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।